ফেব্রুয়ারির ভাষা মাসে বিদেশি শব্দ ব্যবহার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল মাহমুদ টুকু এক অনুষ্ঠানে এমন একটি বক্তব্য দেন, যা সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। তাঁর বক্তব্যে কিছু শব্দকে ‘বিদেশি’ বলে উল্লেখ করায় শুরু হয় সমালোচনা।
এই বিতর্কের প্রেক্ষাপটে মন্তব্য করেন অন্তর্বতী সরকারের সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লিখেছেন, “ইনসাফ একটি সুন্দর বাংলা শব্দ। তেমনি ইনকিলাব, ফায়সালা, আজাদি—সবই বাংলা শব্দ। জিন্দাবাদ এবং আওয়ামী লীগও বাংলা শব্দ। এমনকি চুলিং পংও সুন্দর বাংলা শব্দ।” শফিকুল আলমের এই মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
ডাকসু নেতা এবি জুবায়েরও এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। তিনি বলেন, “জ্বালানি মন্ত্রী বলছেন, ‘ইনকিলাব আমাদের ছেলেদের ভাষা হয়ে গেছে, ইট ইজ এ ফেইলিয়র অব এ টিচার।’ তিনি মনে করছেন, এই শব্দগুলো বিদেশি। ভাষার মাসে বিদেশি শব্দ শুনলে মন্ত্রী ব্লিডিং অনুভব করেন। কিন্তু একই সময়ে তাঁর বক্তব্যের অর্ধেক ইংরেজিতে দেওয়া, যা বিদেশি নয়।” জুবায়েরের যুক্তি হলো, অনেকেই মুখে বাংলা ভাষার প্রতি ভালোবাসা দেখালেও বাস্তবে সন্তানদের ইংলিশ মিডিয়ামে পাঠান। ফলে তারা বাংলার প্রতি আন্তরিক নয়, অথচ বিদেশি শব্দ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখান।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভাষা মাসে এমন বিতর্কের কারণে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ভাষার প্রতি সচেতনতা তৈরি হয়, তবে একই সাথে শব্দের উৎস নিয়ে বিভ্রান্তিও তৈরি হতে পারে। শফিকুল আলমের মন্তব্য অনুযায়ী, অনেক শব্দকে যেভাবে বিদেশি বলা হয়, তা বাস্তবে বাংলা ভাষার অংশ এবং সেগুলো ব্যবহার করা যেতে পারে।
এ ধরনের বিতর্ক বাংলা ভাষার ঐতিহ্য ও আধুনিক ব্যবহারকে নতুনভাবে আলোচনায় নিয়ে আসে। ভাষা আন্দোলন এবং মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় প্রতিটি শব্দের গুরুত্ব অপরিসীম। শফিকুল আলম এবং ডাকসু নেতাদের মন্তব্য প্রমাণ করে, শুধুমাত্র বিদেশি শব্দের উৎস নয়, বরং শব্দের ব্যবহার ও প্রাসঙ্গিকতাই ভাষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ভবিষ্যতে বাংলা ভাষার ভাণ্ডার কতটা খোলামেলা থাকবে এবং নতুন প্রজন্ম কতটা সতর্কভাবে শব্দ নির্বাচন করবে। বিদেশি শব্দকে যে কোনো পরিস্থিতিতে সম্পূর্ণ বর্জন করা সমাধান নয়; বরং শব্দের প্রকৃতি ও প্রাসঙ্গিকতা বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। ভাষার মাসে এই ধরনের বিতর্ক শিক্ষণীয় হওয়ায়, সমালোচনার মধ্য দিয়ে সমাজ ও শিক্ষাব্যবস্থায় ভাষার ব্যবহার নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি পায়।
শফিকুল আলমের বক্তব্য এবং জ্বালানি মন্ত্রীর প্রতিক্রিয়ার আলোকে দেখা যায়, মাতৃভাষা রক্ষা এবং ব্যবহার নিয়ে সমাজে এখনও বিভিন্ন মতবিরোধ বিদ্যমান। এই বিতর্কের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাংলার শব্দভাণ্ডার ও ইতিহাসের প্রতি গভীর আগ্রহ তৈরি হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক