বিভিন্ন সময় নানা মন্তব্য ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আলোচনায় থাকা কনটেন্ট ক্রিয়েটর আশরাফুল হোসেন আলম, যিনি হিরো আলম নামে পরিচিত, আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন। এবারের বিষয়টি জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং ঢাকা-৮ আসনের এক প্রার্থীকে ঘিরে তার ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে হিরো আলম লেখেন, “এবারের নির্বাচনে আমার অভাব পূরণ করেছে ঢাকা-৮ আসনের এক প্রার্থী।” তবে তিনি তার ওই পোস্টে কোনো প্রার্থীর নাম উল্লেখ করেননি। ফলে তার এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা ও জল্পনা শুরু হয়।
হিরো আলম এর আগেও একাধিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়েছেন। নিজের রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও প্রচারণার ধরন দিয়ে তিনি প্রায়ই আলোচনায় থাকেন। এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
তবে শেষ মুহূর্তে তিনি ‘আমজনতা’ দল থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও তা আর জমা দেননি। এর ফলে তিনি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী প্রতিযোগিতার বাইরে থেকে যান। নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার পরও বিভিন্ন মন্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টের মাধ্যমে তিনি আলোচনায় রয়েছেন।
প্রসঙ্গত, ঢাকা-৮ আসনটি এবারের নির্বাচনে বেশ আলোচিত একটি আসন। এই আসনে দুইজন প্রভাবশালী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস এবং জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
নির্বাচনের শুরু থেকেই এই দুই প্রার্থীর মধ্যে বক্তব্য ও পাল্টা বক্তব্যের মাধ্যমে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তাদের কথার লড়াই গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোচিত। এর মধ্যেই হিরো আলমের ফেসবুক পোস্ট নতুন করে আগ্রহের সৃষ্টি করেছে।
ঢাকা-৮ আসনের আলোচনায় আরও একটি নাম উঠে আসে। গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী ও মডেল মেঘনা আলম এই আসনে প্রচারণার সময় মাথায় মুকুট পরে প্রচার চালিয়ে আলোচনায় আসেন। তার এই ব্যতিক্রমী প্রচারণাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
এই প্রেক্ষাপটে হিরো আলমের মন্তব্যকে অনেকে প্রতীকী ও ইঙ্গিতপূর্ণ হিসেবে দেখছেন। তিনি কাকে ইঙ্গিত করে এই মন্তব্য করেছেন, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা না থাকায় বিষয়টি নিয়ে নানা ধরনের ব্যাখ্যা আসছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের সময় এমন মন্তব্য জনমনে কৌতূহল ও আলোচনার জন্ম দেয়।
হিরো আলমের এই পোস্ট নির্বাচনী আলোচনার পরিধি আরও বিস্তৃত করেছে। তিনি সরাসরি নির্বাচনে অংশ না নিলেও তার মন্তব্য যে রাজনৈতিক আলোচনায় প্রভাব ফেলছে, তা স্পষ্ট।