সাভারের আশুলিয়া মডেল টাউন এলাকায় মিলন (১৫) নামের এক কিশোরকে হত্যার ঘটনায় প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া নিহতের লুণ্ঠিত অটোরিকশাসহ আরও একটি ছিনতাই করা অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর উত্তরায় ঢাকা জেলা পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানার গোয়াচালা গ্রামের মজিবুর রহমানের ছেলে মো. রনি মিয়া (২৪), একই থানার উত্তর দাড়িয়াপুর গ্রামের মৃত ওসির উদ্দিনের ছেলে মো. আবুল কালাম (৫২) এবং পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ থানার মাস্টারপাড়া গ্রামের নবাব আলীর ছেলে মো. এরশাদ আলী (৩৪)।
পিবিআই জানায়, সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের আক্রান বাজার ও গাজীপুরের কালিয়াকৈর এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। প্রথমে রনি মিয়াকে সাভারের আক্রান এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গাজীপুরের টানসুত্রাপুর এলাকা থেকে এরশাদ আলী এবং উত্তর দাড়িয়াপুর এলাকা থেকে আবুল কালামকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ জানান, গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে মিলন অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পর ১৮ নভেম্বর আশুলিয়া থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন তার মা জোসনা বেগম। পরবর্তীতে ১ ডিসেম্বর আশুলিয়া মডেল টাউনের একটি কাশবন থেকে অজ্ঞাতনামা কঙ্কাল ও কিছু কাপড় উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারকৃত কাপড় দেখে মিলনের স্বজনেরা তাকে শনাক্ত করেন।
আদালতের নির্দেশে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি মামলাটির তদন্তভার পিবিআই ঢাকা জেলা গ্রহণ করে।
পিবিআইয়ের তদন্তে জানা যায়, ঘটনার দিন আসামি রনি ও সুমন মিলনের অটোরিকশাটি ভাড়া করে আক্রান বাজার এলাকায় নিয়ে যান। সেখান থেকে তাকে ফুঁসলিয়ে আশুলিয়া মডেল টাউনের একটি নির্জন কাশবনে নেওয়া হয়। সেখানে একত্রে গাঁজা সেবনের পর একপর্যায়ে মিলনকে গলাটিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ কাশবনে ফেলে রেখে তারা অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে যায়।
পুলিশ জানায়, নগদ টাকার প্রয়োজনে অটোরিকশা চুরির উদ্দেশ্যেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। মাত্র ৬২ হাজার টাকায় অটোরিকশাটি বিক্রি করে দেওয়া হয় এবং শনাক্ত এড়াতে এর রং পরিবর্তন করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত অপর আসামি সুমন ইতোমধ্যে থানা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।
মামলার তদন্ত কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।