ষড়যন্ত্রের আভাস পেলেই পাল্টা আঘাত, কঠোর হুঁশিয়ারি ইরানের The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ষড়যন্ত্রের আভাস পেলেই পাল্টা আঘাত, কঠোর হুঁশিয়ারি ইরানের

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 7, 2026 ইং
ষড়যন্ত্রের আভাস পেলেই পাল্টা আঘাত, কঠোর হুঁশিয়ারি ইরানের ছবির ক্যাপশন:
ad728

ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র বা আগ্রাসনের ইঙ্গিত পাওয়া গেলেই আগাম ও কঠোর জবাব দেওয়া হবে—এমন স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির সর্বোচ্চ প্রতিরক্ষা পরিষদ সচিবালয়। মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরানবিরোধী উসকানিমূলক বক্তব্য এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে এই অবস্থান স্পষ্ট করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা দেশটির জন্য অলঙ্ঘনীয় ‘রেড লাইন’। এই সীমা অতিক্রমের যেকোনো প্রচেষ্টার জবাব হবে আনুপাতিক, কঠোর এবং সিদ্ধান্তমূলক। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়—ইরান আর কেবল হামলার শিকার হওয়ার পর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বসে থাকবে না। বরং হুমকির সুস্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য আলামত পাওয়া গেলেই দেশটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অগ্রিম পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ইরানের সর্বোচ্চ প্রতিরক্ষা পরিষদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই নতুন কৌশল প্রতিরোধনীতি ও সর্বোচ্চ সতর্কতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে তোলা হয়েছে। এতে করে সম্ভাব্য শত্রুদের আগ্রাসী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগেই তা ব্যর্থ করে দেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছে তেহরান।

ট্রাম্পের ‘মেক ইরান গ্রেট এগেইন’ ক্যাপ নিয়ে বিতর্ক

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে নতুন এক বিতর্কে ইরান–যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। ইরান ইন্টারন্যাশনালের খবরে বলা হয়, মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের এক্স অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত একটি ছবিতে দেখা যায়, এয়ার ফোর্স ওয়ানে বসে ট্রাম্প হাতে ধরে আছেন একটি ক্যাপ, যেখানে লেখা ‘মেক ইরান গ্রেট এগেইন’। ক্যাপটিতে ট্রাম্পের স্বাক্ষরও রয়েছে।

ছবিটি প্রকাশের পর বিশেষ করে ইরানে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলাকালীন এই ছবির প্রকাশ নিছক কৌতুক নয়, বরং এটি একটি রাজনৈতিক ও কৌশলগত বার্তা।

এর আগে গত জুনে ১২ দিনের সংঘাত চলাকালে ট্রাম্প প্রথম এই স্লোগান ব্যবহার করেন। সে সময় তিনি প্রকাশ্যে সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরানের শাসকগোষ্ঠী যদি দেশকে ‘মহান’ করতে ব্যর্থ হয়, তবে ক্ষমতা পরিবর্তনের বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে।

বর্তমানে ইরানে অর্থনৈতিক সংকট ও মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দেশটির ২৭টি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভকারীরা সরাসরি সর্বোচ্চ নেতার বিরুদ্ধেও স্লোগান দিচ্ছে। মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএর দাবি অনুযায়ী, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত ৩৫ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইতোমধ্যে দুই দফা সতর্ক করে বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন বা হত্যাকাণ্ড চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্র নীরব থাকবে না। প্রয়োজনে সরাসরি হস্তক্ষেপের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

বিশ্লেষকদের মতে, সম্প্রতি ভেনিজুয়েলায় মার্কিন প্রভাব বিস্তার এবং ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় বিমান হামলার মতো ঘটনাগুলো তেহরানের ওপর চাপ আরও বাড়িয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তা পিট হেগসেথ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ‘গোল্ডেন ফ্লিট’ নামে নতুন ও শক্তিশালী নৌবহর গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদারের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রতীকী বার্তা, সামরিক প্রস্তুতি ও কূটনৈতিক চাপ—সব মিলিয়ে ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নতুন করে একটি বিপজ্জনক মোড়ে প্রবেশ করছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমলেও দেশে কেন কমছে না

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমলেও দেশে কেন কমছে না