জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধে ৩১ বছর আগে ফুফাতো বোনকে হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বড় ভাই শফি উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করে র্যাব-১৩।
র্যাব জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে রংপুর জেলার বদরগঞ্জ পৌর এলাকার পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। শফি উদ্দিন (৬০) মিঠাপুকুর উপজেলার খামার কুর্শা গ্রামের কফিল উদ্দিনের ছেলে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৫ সালে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে শফি উদ্দিন তার ফুফাতো বোনকে হত্যা করেন। এ ঘটনায় মিঠাপুকুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত প্রধান আসামি শফি উদ্দিনের মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন।
হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে পরিচয় গোপন রেখে বদরগঞ্জ উপজেলায় বসবাস করছিলেন বলে জানায় র্যাব।
খবর পেয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে আসামিকে গ্রেপ্তার ও আদালতের রায় কার্যকর করার লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পরবর্তীতে র্যাব-১৩ গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে এবং তার অবস্থান নিশ্চিত করে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে পলাতক সাজাপ্রাপ্ত আসামি শফি উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। দীর্ঘ ৩১ বছর পলাতক থাকার পর অবশেষে তিনি আইনের আওতায় এলেন।
র্যাব-১৩ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী বলেন, “সাজাপ্রাপ্ত আসামি শফি উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।”
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, পলাতক সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। দীর্ঘদিন ধরে বিচার এড়িয়ে আত্মগোপনে থাকা আসামিদের আইনের আওতায় আনতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘ সময় পর হলেও আসামির গ্রেপ্তার ভুক্তভোগী পরিবারের জন্য স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে। তারা দ্রুত আদালতের রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন।
কসমিক ডেস্ক