মাস্তুল ফাউন্ডেশনের এক দশকের সাফল্য: অসহায় মানুষের পাশে মানবিক যাত্রা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

মাস্তুল ফাউন্ডেশনের এক দশকের সাফল্য: অসহায় মানুষের পাশে মানবিক যাত্রা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 8, 2026 ইং
মাস্তুল ফাউন্ডেশনের এক দশকের সাফল্য: অসহায় মানুষের পাশে মানবিক যাত্রা ছবির ক্যাপশন:

অসহায় মানুষের অশ্রু মুছে মুখে হাসি ফোটানোকে লক্ষ্য করে এক দশক ধরে মানবিক সেবা প্রদান করে যাচ্ছে বাংলাদেশের অন্যতম দাতব্য প্রতিষ্ঠান ‘মাস্তুল ফাউন্ডেশন’। ২০১২ সালে একদল তরুণের সঙ্গে কাজী রিয়াজ রহমান যে স্বপ্নদ্রষ্টা যাত্রার সূচনা করেছিলেন, আজ তা লাখো মানুষের আশ্রয়স্থল ও স্বনির্ভরতার পথপ্রদর্শক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।

কাজী রিয়াজ রহমান বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে নিজের টিউশন ফি বাঁচিয়ে পথশিশুদের শিক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষুদ্র উদ্যোগ শুরু করেছিলেন। বর্তমানে তিনি মালয়েশিয়ায় ‘সুবিধাবঞ্চিত মানুষের টেকসই উন্নয়নে দাতব্য সংস্থার ভূমিকা’ বিষয়ক পিএইচডি গবেষণা করছেন। তার সুদূরপ্রসারী চিন্তা এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনার কারণে মাস্তুল ফাউন্ডেশন একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহি এবং বিজ্ঞানসম্মত সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠেছে।

প্রতিষ্ঠাতা কাজী রিয়াজ রহমান বলেন, “মাস্তুল ফাউন্ডেশন কেবল একটি সংস্থা নয়, এটি অবহেলিত মানুষের ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন। আমাদের প্রতিটি কাজের লক্ষ্য মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং প্রত্যেক শিশুকে নিজ পায়ে দাঁড়াতে সাহায্য করা।”

মাস্তুল ফাউন্ডেশন সরকারীভাবে নিবন্ধিত, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও জয়েন্ট স্টক কোম্পানি থেকে অনুমোদিত, এনজিও ব্যুরো এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (NBR) স্বীকৃতি লাভ করেছে। এছাড়া বেওয়ারিশ লাশ দাফনের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন প্রাপ্ত।

ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম কেবল বাংলাদেশে সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্বজুড়ে যেখানে মানবিক সংকট, সেখানে মাস্তুলের স্বেচ্ছাসেবীরা পৌঁছে দিচ্ছেন সাহায্য। গাজা ও সুদানে অবরুদ্ধ শিশুদের জন্য পুষ্টিকর খাবার, জীবনরক্ষাকারী ওষুধ ও মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে এটি এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

মাস্তুল ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে:

  • মাস্তুল স্কুল, মাদ্রাসা ও এতিমখানা: সুবিধাবঞ্চিত ও এতিম শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা, পুষ্টিকর খাবার ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করে, তাদের নিরাপদ ও সৃজনশীল শৈশব উপহার দেওয়া।

  • মাস্তুল স্বাবলম্বী প্রজেক্ট: জাকাতের অর্থ ব্যবহার করে পরিবারের জন্য রিকশা, সেলাই মেশিন ও ক্ষুদ্র ব্যবসার পুঁজি প্রদান, প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাবলম্বী করে তোলা।

  • মাস্তুল ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম: ইসলামিক ফাইন্যান্সে ভিত্তিক ‘কর্জ-এ-হাসানা’ ঋণ দিয়ে অসচ্ছল মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করা।

  • মাস্তুল বৃদ্ধাশ্রম ও শেল্টারহোম: অবহেলিত ও পরিবারবিচ্ছিন্ন প্রবীণদের জন্য উন্নত আবাসন, পুষ্টিকর খাবার ও চিকিৎসা।

  • মেহমানখানা: প্রতিদিন শত শত অসহায় ও পথচারীর জন্য বিনামূল্যে খাবার।

  • ওয়াশ ও যুব উন্নয়ন: নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও নেতৃত্ব বিকাশমূলক প্রশিক্ষণ।

  • দাফনসেবা, অ্যাম্বুলেন্স ও অক্সিজেন সেবা: বেওয়ারিশ মরদেহের মর্যাদাপূর্ণ দাফন এবং অসহায় রোগীদের চিকিৎসাসেবা।

  • ইসলামিক শেল্টারহোম কমপ্লেক্স: ১০ তলা বিশিষ্ট কমপ্লেক্সে মসজিদ, স্কুল, এতিমখানা, বৃদ্ধাশ্রমসহ সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য স্থায়ী আশ্রয়স্থল।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী, মাস্তুল ফাউন্ডেশনের যেকোনো দান, যাকাত বা সাদাকা আয়করমুক্ত এবং দাতাদের জন্য আয়কর রেয়াত হিসেবে গণ্য হবে।

এক দশকের অদম্য উদ্যোগ, স্বচ্ছ পরিচালনা ও বহুমুখী মানবিক সেবা মাস্তুল ফাউন্ডেশনকে বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে আস্থার প্রতীক এবং আন্তর্জাতিকভাবে মানবিক সেবার মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
দুর্নীতি অনুসন্ধানে সাবেক সচিব শহীদ খানের বিদেশ যাত্রায় নিষে

দুর্নীতি অনুসন্ধানে সাবেক সচিব শহীদ খানের বিদেশ যাত্রায় নিষে