ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে টিন ও খাদ্য দিল কলাপাড়া প্রশাসন The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে টিন ও খাদ্য দিল কলাপাড়া প্রশাসন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 29, 2026 ইং
ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে টিন ও খাদ্য দিল কলাপাড়া প্রশাসন ছবির ক্যাপশন:

পটুয়াখালীর Kalapara উপজেলায় সাম্প্রতিক কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে উপজেলা প্রশাসন। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচটি পরিবার এবং একটি মাদরাসা কর্তৃপক্ষের মাঝে ঢেউটিন ও খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে, যা ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সাময়িক স্বস্তি বয়ে এনেছে।

বুধবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সহায়তা প্রদান করা হয়। এতে সহযোগিতা করে Department of Disaster Management। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাউসার হামিদ এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোকসেদুল আলম।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড় আঘাত হানে। বিশেষ করে Nilganj Union এলাকায় ঝড়ের তীব্রতা বেশি ছিল। এতে বেশ কয়েকটি বসতঘর সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া পরিবারগুলোর মধ্যে রয়েছেন নির্মল বিশ্বাস, বিমল বিশ্বাস, মন্নান বয়াতী ও অপূর্ব হাওলাদার। তাদের প্রত্যেককে দুই বান্ডেল করে ঢেউটিন এবং একটি করে শুকনা খাবারের প্যাকেট প্রদান করা হয়েছে। এই সহায়তা তাদের ক্ষতিগ্রস্ত ঘর মেরামতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

এছাড়া Chakmaiya Union-এর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত Nishanbari Al-Madina Hafizia Madrasa কর্তৃপক্ষকে একটি বান্ডেল ঢেউটিন দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মরিয়ম বেগম নামের এক ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে দুই প্যাকেট শুকনা খাবার প্রদান করা হয়।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে জরুরি সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা আরও যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত সহায়তা দেওয়া হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হঠাৎ করেই কালবৈশাখী ঝড় শুরু হওয়ায় অনেকেই প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পাননি। ঝড়ের তীব্র বাতাসে ঘরের চাল উড়ে যায়, গাছপালা ভেঙে পড়ে এবং অনেক পরিবার রাত কাটায় খোলা আকাশের নিচে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত সহায়তা পাওয়ায় তারা কিছুটা স্বস্তি অনুভব করছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউসার হামিদ বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানো সরকারের অগ্রাধিকার। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি জোরদার করা হবে।

বাংলাদেশে কালবৈশাখী ঝড় একটি নিয়মিত প্রাকৃতিক ঘটনা হলেও সাম্প্রতিক সময়ে এর তীব্রতা ও ক্ষয়ক্ষতি বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ফলে স্থানীয় প্রশাসনকে দ্রুত সাড়া দেওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় আরও কার্যকর পরিকল্পনা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

সব মিলিয়ে, কলাপাড়ায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ঢেউটিন ও খাদ্য সহায়তা বিতরণ তাদের দুর্দশা কিছুটা লাঘব করেছে। তবে স্থায়ীভাবে ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে আরও সহায়তা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম অব্যাহত রাখা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
নতুন সময়সূচিতে ব্যাংক কার্যক্রম, জ্বালানি সাশ্রয়ে উদ্যোগ

নতুন সময়সূচিতে ব্যাংক কার্যক্রম, জ্বালানি সাশ্রয়ে উদ্যোগ