সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী এবং সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেছেন, নতুন প্রজন্ম আর পচা রাজনীতি দেখতে চায় না; তারা রাজনীতিতে নতুনত্ব ও গুণগত পরিবর্তন প্রত্যাশা করে। বর্তমান সময়ের তরুণ সমাজ রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও চরিত্রের পরিবর্তনের দিকে তাকিয়ে আছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দিরাই মিনি স্টেডিয়ামে ‘ঐক্য ও সম্প্রীতি’ ব্যানারে দাঁড়ি পাল্লার সমর্থনে আয়োজিত শেষ নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জনসভায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন এবং বিভিন্ন গ্রাম থেকে মিছিল নিয়ে সমাবেশে অংশ নেন।
শিশির মনির বলেন, তিনি আশা করেছিলেন ৫ আগস্টের পর সমাজে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। তার প্রত্যাশা ছিল রাজনীতিতে গুণগত ও নৈতিক পরিবর্তন হবে, মানুষের চরিত্রে দৃশ্যমান উন্নয়ন দেখা যাবে। তবে বাস্তবতা অনুযায়ী সেই পরিবর্তন এখনো পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
প্রতিপক্ষের সমালোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাকে নিয়ে করা সমালোচনার জবাব দিতে তিনি বাধ্য নন। তার মতে, নেতিবাচক বক্তব্য ও ব্যক্তিগত আক্রমণ রাজনীতিকে কলুষিত করে, যা নতুন প্রজন্ম গ্রহণ করতে চায় না। তিনি ইতিবাচক রাজনীতি ও দায়িত্বশীল আচরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
নিজের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে জামায়াত মনোনীত এই প্রার্থী বলেন, নির্বাচনে জয়ী হন বা পরাজিত হন—ছয় মাসের মধ্যে দিরাই-শাল্লা এলাকার কোনো এক উপযুক্ত স্থানে একটি প্রতিবন্ধী হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করবেন। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে জমির মালিকের সঙ্গে আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানান তিনি। সমাজের অবহেলিত ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানোকে তিনি মানবিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন।
শিশির মনির জীবন ও সমাজ সম্পর্কে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে বলেন, সত্য ও মিথ্যা, সুখ ও দুঃখ—সব অবস্থাতেই মানুষের পাশে থাকাই প্রকৃত সফলতা। ক্ষমতা বা পদ নয়, মানুষের আস্থা ও ভালোবাসাই একজন রাজনীতিকের আসল অর্জন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজন নয়; বরং ঐক্য, পারস্পরিক সম্মান ও সহাবস্থানই সমাজকে এগিয়ে নেয়। ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রেখে শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনের ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
উপজেলা আমির আব্দুল কুদ্দুসের সভাপতিত্বে এবং প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট রেজাউল ইসলামের পরিচালনায় আয়োজিত এই সমাবেশে স্থানীয় নেতা ও সমাজকর্মীরাও বক্তব্য রাখেন। সমাবেশে উপস্থিত নেতারা ঐক্য, উন্নয়ন ও নৈতিক রাজনীতির পক্ষে জনসমর্থন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
সমাবেশ শেষে বিভিন্ন গ্রাম থেকে আগত শত শত মানুষ মিছিলসহ দাঁড়ি পাল্লার সমর্থন জানিয়ে এলাকায় নির্বাচনী পরিবেশ আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।