জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলায় বজ্রপাতে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ভোরবেলায় যমুনা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তির নাম মো. শামীম মিয়া (৩৭)। তিনি উপজেলার গাইবান্ধা ইউনিয়নের মরাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা এবং মোহাম্মদ আলী মেম্বারের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২৮ এপ্রিল) ভোরে শামীম মিয়া জীবিকার তাগিদে যমুনা নদীতে মাছ ধরতে যান। এ সময় হঠাৎ করে আকাশে কালো মেঘ জমে বৃষ্টি শুরু হয় এবং সঙ্গে সঙ্গে বজ্রপাতও শুরু হয়।
বজ্রপাতের সময় তিনি নদীর মাঝখানে অবস্থান করছিলেন। আকস্মিক বজ্রাঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। পরে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুল কাইয়ূম গাজী বলেন, “বৃষ্টির সময় নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি আমরা নিশ্চিত হয়েছি।”
বাংলাদেশে বর্ষা মৌসুম ও প্রাক-মৌসুমে বজ্রপাতজনিত দুর্ঘটনা একটি সাধারণ কিন্তু ভয়াবহ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে খোলা জায়গা, নদী, মাঠ বা খেত-খামারে কাজ করার সময় বজ্রপাতের ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বজ্রপাত সাধারণত আকাশে শক্তিশালী বৈদ্যুতিক চার্জের কারণে সৃষ্টি হয়, যা মেঘ থেকে ভূমিতে নেমে আসে। খোলা জায়গায় থাকা মানুষ বা পানি-সংলগ্ন এলাকায় থাকা ব্যক্তিরা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।
যমুনা নদীর মতো বড় নদীতে মাছ ধরার সময় বজ্রপাতের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়, কারণ পানি বিদ্যুৎ পরিবাহক হিসেবে কাজ করে। ফলে নদীতে থাকা জেলেরা অনেক সময় প্রাণঘাতী পরিস্থিতির মুখোমুখি হন।
স্থানীয়রা জানান, শামীম মিয়া ছিলেন পরিবারের একজন উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
প্রশাসন ও আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বর্ষা ও ঝড়-বৃষ্টির সময় খোলা জায়গা, নদী বা গাছের নিচে না থাকার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি বজ্রপাত থেকে বাঁচতে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার গুরুত্বও তুলে ধরা হয়।
এ ধরনের দুর্ঘটনা কমাতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সময়মতো আবহাওয়ার সতর্কবার্তা অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সব মিলিয়ে, ইসলামপুরের এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল—প্রকৃতির এই ভয়ংকর রূপের সামনে মানুষের জীবন কতটা অনিশ্চিত এবং সতর্কতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
কসমিক ডেস্ক