জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা এক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় আজ আদেশ দিতে যাচ্ছে International Crimes Tribunal-১। এই মামলায় আসামি হিসেবে রয়েছেন Kamalul Islam (কামরুল ইসলাম) এবং Rashed Khan Menon।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি Md. Golam Mortuza Majumder-এর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেবেন। বেঞ্চের অন্য সদস্যরা হলেন বিচারপতি Md. Shafiul Alam Mahmud এবং বিচারক Md. Mohitul Haque Enam Chowdhury।
এর আগে গত ৯ এপ্রিল এই আদেশ দেওয়ার কথা থাকলেও আসামিপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে তা স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে নতুন তারিখ হিসেবে আজকের দিন নির্ধারণ করা হয়। ফলে অভিযোগ গঠন সংক্রান্ত এই আদেশ ইতোমধ্যে দুইবার পেছানো হয়েছে।
আসামিপক্ষের আইনজীবী Mansurul Haque Chowdhury গত ১১ মার্চ আদালতে একটি ডিসচার্জ আবেদন করেন। তিনি দাবি করেন, তার মক্কেলদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পক্ষে প্রসিকিউশন কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি। এমনকি কোনো হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাদের প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততারও প্রমাণ নেই বলে তিনি যুক্তি দেন।
অন্যদিকে প্রসিকিউশন পক্ষ অভিযোগ গঠনের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেয়। গত ২ মার্চ শুনানিতে চিফ প্রসিকিউটর Aminul Islam বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারকে টিকিয়ে রাখতে কামরুল ইসলাম ও রাশেদ খান মেনন বিভিন্নভাবে উসকানি দিয়েছেন।
প্রসিকিউশনের ভাষ্যমতে, তারা আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলীয় জোটের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা হিসেবে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগে প্ররোচনা দেন। এতে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানো এবং কারফিউ জারির মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যার ফলে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
এই মামলায় রাজধানীর বাড্ডা এলাকাসহ আশপাশে ২৩ জনকে হত্যার অভিযোগসহ মোট তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে দুই নেতার বিরুদ্ধে। গত ৩ ফেব্রুয়ারি প্রসিকিউশনের দেওয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল।
আইন বিশ্লেষকদের মতে, আজকের এই আদেশ মামলার পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অভিযোগ গঠন হলে মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে বিচারপর্বে প্রবেশ করবে এবং সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ শুরু হবে। অন্যদিকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেলে আসামিরা এই মামলায় দায়মুক্তি পেতে পারেন।
সব মিলিয়ে, দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন ও বিচারব্যবস্থায় আলোচিত এই মামলার আজকের আদেশকে ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠনের পক্ষে সিদ্ধান্ত দেয় নাকি আসামিদের অব্যাহতি প্রদান করে।