ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের একটি আসনের ফলাফল নিয়ে নতুন করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ঢাকা-১৩ আসনের ভোটের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করেছেন জামায়াত জোটের প্রার্থী মামুনুল হক। নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে আপত্তি জানিয়ে তিনি আদালতের কাছে পুনর্বিবেচনার আবেদন করেছেন। বিষয়টি নিয়ে বুধবার (১১ মার্চ) হাইকোর্টে শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
জানা গেছে, আবেদনটি শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন হাইকোর্টের বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত একক বেঞ্চ। আদালত এ বিষয়ে শুনানি গ্রহণ করবেন এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করবেন। ঢাকা-১৩ আসনে এবারের নির্বাচনে বিজয়ী হন বিএনপির প্রার্থী ববি হাজ্জাজ। তবে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করার সিদ্ধান্ত নেন মামুনুল হক।
নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর অনেক সময় প্রার্থীরা বিভিন্ন অভিযোগ তুলে আদালতের শরণাপন্ন হন। এই ক্ষেত্রেও তেমনটাই ঘটেছে। মামুনুল হক তার আবেদনে নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ তুলে ফলাফল পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন। আদালত এখন সেই আবেদনের প্রাথমিক শুনানি করবেন এবং প্রয়োজনীয় আইনি দিক বিবেচনা করবেন।
এ ধরনের আবেদন বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি অংশ। গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের ৪৯ ধারা অনুযায়ী নির্বাচনী অনিয়ম, ফলাফল নিয়ে আপত্তি বা ভোটগ্রহণ সংক্রান্ত অভিযোগ থাকলে প্রার্থীরা আদালতে ‘নির্বাচনী আবেদন’ করতে পারেন। এই আইনি বিধান অনুসারেই হাইকোর্টে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয় এবং সেই ট্রাইব্যুনাল এসব আবেদন শুনানি করে থাকে।
ঢাকা-১৩ আসনের এই আবেদন ছাড়াও ইতোমধ্যে বিভিন্ন আসনের ভোটের ফলাফল নিয়ে একাধিক প্রার্থী আদালতে আবেদন করেছেন। জানা গেছে, এর আগে ২৫টিরও বেশি নির্বাচনী আসনের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে প্রার্থীরা হাইকোর্টে আবেদন জমা দিয়েছেন। এসব আবেদন আদালত গ্রহণ করেছে এবং শুনানির জন্য নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী এগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
আদালত ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট আসনগুলোর ভোটগ্রহণ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও সরঞ্জামাদি সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন। এর মধ্যে ব্যালট পেপারসহ নির্বাচনের সময় ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় উপকরণ নিরাপদে সংরক্ষণ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আদালতের নির্দেশনার উদ্দেশ্য হলো, শুনানির সময় প্রয়োজন হলে এসব উপকরণ যাচাই করে দেখা।
নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল হিসেবে হাইকোর্টের এই বেঞ্চ বিভিন্ন আবেদন শুনানি করছে। বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত একক বেঞ্চ বর্তমানে এসব মামলার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। শুনানির সময় আদালত সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য শুনবেন এবং প্রয়োজনীয় আইনি সিদ্ধান্ত দেবেন।
নির্বাচনের পর ফলাফল নিয়ে আদালতে আবেদন করা বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থায় একটি স্বীকৃত আইনি প্রক্রিয়া। এতে প্রার্থীরা তাদের অভিযোগ আদালতের সামনে উপস্থাপন করার সুযোগ পান এবং আদালত আইন অনুযায়ী তা যাচাই করে সিদ্ধান্ত দেন।
ঢাকা-১৩ আসনের ফলাফল নিয়ে করা এই আবেদনও সেই আইনি প্রক্রিয়ার অংশ। বুধবারের শুনানিতে আদালত মামলার প্রাথমিক বিষয়গুলো পর্যালোচনা করবেন। পরবর্তী সময়ে প্রয়োজন হলে আদালত আরও নির্দেশনা দিতে পারেন বা মামলার পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ করতে পারেন।
এখন নজর রয়েছে আদালতের শুনানির দিকে। কারণ এই শুনানির মাধ্যমে পরিষ্কার হবে আবেদনটি পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় কীভাবে এগোবে এবং আদালত এ বিষয়ে কী ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
কসমিক ডেস্ক