মোবাইল কোর্টেও থামছে না ভিক্ষা, রাজধানীতে উদ্বেগজনক চিত্র The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

মোবাইল কোর্টেও থামছে না ভিক্ষা, রাজধানীতে উদ্বেগজনক চিত্র

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 10, 2026 ইং
মোবাইল কোর্টেও থামছে না ভিক্ষা, রাজধানীতে উদ্বেগজনক চিত্র ছবির ক্যাপশন:
ad728

রাজধানী ঢাকাকে ভিক্ষুকমুক্ত করার নানা উদ্যোগ থাকলেও বাস্তবচিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, বিভিন্ন এলাকা ভিক্ষুকমুক্ত ঘোষণা এবং পুনর্বাসন কার্যক্রমের পরও ঢাকাজুড়ে ভিক্ষাবৃত্তি কমছে না। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভিক্ষুকের সংখ্যা ও কৌশল—দুটোই বাড়ছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, রাজধানীর প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ ও জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় ভিক্ষাবৃত্তি নিত্যদিনের চিত্র। বিমানবন্দর রেলস্টেশন, উত্তরার জমজম টাওয়ার, আবদুল্লাহপুর, হাউস বিল্ডিং এলাকা, গুলিস্তান, কাকরাইল, ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবর, মতিঝিলের শাপলা চত্বর, নিউমার্কেট, পুরান ঢাকা, পান্থপথ ও মিরপুরসহ বহু এলাকায় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভিক্ষুকদের উপস্থিতি চোখে পড়ে। বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, মসজিদ ও শপিংমলের সামনেও ভিক্ষাবৃত্তি চলছে অবাধে।

শুধু অসহায় বা শারীরিকভাবে অক্ষম ব্যক্তিরাই নয়—ভিক্ষার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে সুস্থ-সবল মানুষও। কোথাও কোথাও অভিজাত এলাকায় ১০ টাকার নিচে দিলে তা নিতে অনীহা প্রকাশ করছে ভিক্ষুকরা। এতে ভিক্ষাবৃত্তি যে অনেক ক্ষেত্রে পেশায় পরিণত হয়েছে, সে ইঙ্গিতও মিলছে।

ভিক্ষা করার ক্ষেত্রে নানা কৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে। কেউ হুইলচেয়ারে বসে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা প্রদর্শন করছে, কেউ হাতে বা গলায় হাসপাতালের প্রেসক্রিপশন ঝুলিয়ে সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করছে। অনেক নারী ভাড়া করা বা নিজেদের শিশুকে কোলে নিয়ে টাকা চাইছে। আবার বাসে বাসে ঘুরে ছোট কাগজে আবেগঘন বার্তা লিখে যাত্রীদের কাছে ভিক্ষা চাইতেও দেখা যাচ্ছে।

বিমানবন্দর রেলস্টেশনের সামনে সাত বছর বয়সী ভিক্ষুক শায়রার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তার বাবা শারীরিকভাবে অক্ষম এবং কাজ করতে পারেন না। মায়ের আয়ে সংসার চালানো কঠিন হওয়ায় সে ছোট ভাইকে নিয়ে ভিক্ষা করছে। আগে ফুল বিক্রি করলেও আয় কম হওয়ায় ভিক্ষাকেই বেছে নিয়েছে। শায়রা জানায়, প্রতিদিন তার আয় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত হয়। ঈদের সময় এই আয় ৩ থেকে ৪ হাজার টাকার বেশি হয়।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের সামাজিক নিরাপত্তা অধিশাখার উপপরিচালক মো. শাহ জাহান বলেন, ভিক্ষা একটি সহজ পেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাত পাতলেই টাকা পাওয়া যায়, পরিশ্রম তুলনামূলকভাবে কম। তার ভাষ্যমতে, অনেক ভিক্ষুক দিনে ৩ হাজার থেকে ৮ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত আয় করে। মাসে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকার কাজের সুযোগ দেওয়া হলেও অনেকে ভিক্ষা ছাড়তে আগ্রহ দেখায় না।

তিনি আরও জানান, ভিক্ষুক নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। পুলিশ ও সিটি করপোরেশন যৌথভাবে কাজ করছে। তবে এটি স্থায়ী সমাধান নয়। একদল ভিক্ষুককে পুনর্বাসন করা হলে কিছুদিন পর নতুন ভিক্ষুক এসে সেই জায়গা দখল করে নেয়। বিশেষ করে অভিজাত এলাকাগুলোতে বেশি অর্থ ভিক্ষা দেওয়ায় সেখানে ভিক্ষাবৃত্তি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

শিশুদের ব্যবহার করে ভিক্ষাবৃত্তির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি গুরুতর অপরাধ। আগে এই প্রবণতা বেশি থাকলেও বিশেষ অভিযানের ফলে এখন আগের তুলনায় অনেকটাই কমেছে। আইন অনুযায়ী শিশুদের ভিক্ষায় ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিক্ষাবৃত্তি বন্ধে শুধু অভিযান বা মোবাইল কোর্ট নয়, দরকার দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক সচেতনতা। তা না হলে রাজধানী ঢাকায় ভিক্ষুকমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলা কঠিনই থেকে যাবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
রংপুর–৪ আসনে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো জামায়াত নেতার ‘কোরবান

রংপুর–৪ আসনে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো জামায়াত নেতার ‘কোরবান