সিরাজগঞ্জ জেলার যমুনা সেতু পশ্চিম থানার টোল প্লাজা এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৩ কেজি ৯০ গ্রাম হেরোইনসহ এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১২। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি ট্রাক এবং একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত হেরোইনের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টার দিকে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেন র্যাব-১২ সিরাজগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর মো. আহসান হাবিব। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে এই সাফল্য পাওয়া গেছে।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, গত ২২ ফেব্রুয়ারি রবিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে র্যাব-১২ এর একটি আভিযানিক দল সিরাজগঞ্জের যমুনা সেতুর টোল প্লাজা এলাকায় অবস্থান নেয়। সেখানে সন্দেহভাজন একটি ট্রাক তল্লাশি করে বিপুল পরিমাণ হেরোইন উদ্ধার করা হয়। ট্রাকটির ভেতরে বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল মাদকদ্রব্যটি। ঘটনাস্থল থেকেই মো. ইসমাইল হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম মো. ইসমাইল হোসেন (৩১)। তিনি দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার মাটিকুড়া গ্রামের মৃত ইব্রাহীম হোসেনের ছেলে বলে জানিয়েছে র্যাব। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি মাদক পরিবহনের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন কিনা, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তবে র্যাব বলছে, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে মাদক চক্রের অন্য সদস্যদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
উদ্ধার হওয়া হেরোইনের পরিমাণ ৩ কেজি ৯০ গ্রাম। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, এত পরিমাণ হেরোইন অবৈধ বাজারে বিক্রি হলে এর মূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা হতে পারে। মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি একটি মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়েছে, যা মাদক লেনদেন বা যোগাযোগের কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
র্যাব-১২ এর ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর মো. আহসান হাবিব জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে যমুনা সেতু পশ্চিম থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, যমুনা সেতু এলাকা দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের সংযোগস্থল হওয়ায় এটি মাদক পরিবহনের একটি সম্ভাব্য রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এ কারণে এই এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে র্যাব কাজ করে যাচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশে মাদকবিরোধী অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলা ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সিরাজগঞ্জে পরিচালিত এই অভিযানকে মাদকবিরোধী চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে র্যাব।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, মাদকদ্রব্যের অবৈধ বাণিজ্য রোধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে তারা। ভবিষ্যতেও এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে র্যাব-১২।
কসমিক ডেস্ক