জাপানের নতুন প্রধানমন্ত্রী সানা তাকাইচি আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সংসদ ভেঙে আগাম নির্বাচন ঘোষণার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন। দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান সময়ে সরকারের প্রতি জনসমর্থন তুলনামূলকভাবে শক্ত থাকায় সেই সুযোগ কাজে লাগাতেই দ্রুত নির্বাচনের পথে যেতে চান তিনি।
গত অক্টোবরে দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে জাপানের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন সানা তাকাইচি। সাম্প্রতিক জনমত জরিপে তাঁর মন্ত্রিসভার জনপ্রিয়তা প্রায় ৭০ শতাংশে পৌঁছেছে, যা দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সরকারের জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে সংসদের নিম্নকক্ষে তাকাইচির নেতৃত্বাধীন জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা খুবই সীমিত। এই দুর্বল অবস্থানের কারণে রাজস্ব ব্যয় বৃদ্ধি, নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সক্ষমতা জোরদারের মতো উচ্চাভিলাষী নীতিগত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়ছে সরকার।
ইয়োমিউরি ও মাইনিচি পত্রিকা সরকারি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, আগামী ২৩ জানুয়ারি শুরু হতে যাওয়া সংসদের অধিবেশনের শুরুতেই নিম্নকক্ষ ভেঙে দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে ফেব্রুয়ারির প্রথম ভাগ থেকে মধ্যভাগের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মাইনিচি পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাকাইচির প্রশাসনের ভেতরে একটি শক্ত অবস্থান তৈরি হয়েছে—জনসমর্থন কমে যাওয়ার আগেই নির্বাচন আয়োজন করে সরকারকে আরও দৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো প্রয়োজন। তবে প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট কোনো সূত্রের নাম উল্লেখ করা হয়নি।
বর্তমানে ক্ষমতাসীন লিবারাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ও জোটসঙ্গী জাপান ইনোভেশন পার্টি গত নভেম্বর মাসে নিম্নকক্ষে সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়, যখন তিনজন সংসদ সদস্য এলডিপিতে যোগ দেন। তবে সংসদের উচ্চকক্ষে এখনো ক্ষমতাসীন জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি।
ইয়োমিউরি পত্রিকার মতে, যদি বড় ধরনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া যায়, তাহলে প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি আরও সক্রিয় রাজস্ব ব্যয় নীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের গোয়েন্দা ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করতে পারবেন। একই সঙ্গে এতে চীনের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক অচলাবস্থা কাটিয়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।
এর আগে গত নভেম্বরে তাকাইচি মন্তব্য করেছিলেন, ভবিষ্যতে চীন যদি তাইওয়ানে সামরিক হামলা চালায়, তাহলে জাপানও সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারে। এই বক্তব্যের পর থেকেই বেইজিং ও টোকিওর মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও বেড়ে যায়।
চীনের পক্ষ থেকে জাপানে সামরিক কাজে ব্যবহারযোগ্য ‘ডুয়াল-ইউজ’ পণ্যের রফতানিতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি বৈদ্যুতিক যান ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ বিরল খনিজ রফতানিও সীমিত করা হচ্ছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে আগাম নির্বাচন শুধু অভ্যন্তরীণ রাজনীতির হিসাব নয়, বরং আঞ্চলিক কূটনীতি ও নিরাপত্তা কৌশলের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িয়ে আছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।