এশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে যাচ্ছে না, বরং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিজেদের অনুকূলে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখতে সেখানে আরও শক্ত অবস্থান নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পেন্টাগনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। সোমবার ম্যানিলায় এক বক্তৃতায় মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের নীতি বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি এলব্রিজ কোলবি এ কথা বলেন। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ও অংশীদারদের নিজেদের প্রতিরক্ষার দায়িত্ব আরও বেশি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এশিয়ায় মার্কিন উপস্থিতি নিয়ে বার্তা
ম্যানিলায় দেওয়া বক্তব্যে কোলবি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এশিয়া থেকে সরে যাচ্ছে না। বরং যেখানে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, সেখানে ক্ষমতার ভারসাম্য নিজেদের অনুকূলে রাখতে দেশটি শক্তভাবে অবস্থান নিচ্ছে।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিত্র ও অংশীদারদের সম্পর্কের ভিত্তি হওয়া উচিত নির্ভরশীলতা নয়, বরং অংশীদারি। মিত্র দেশগুলোকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য আরও বেশি দায়িত্ব নেওয়া এবং প্রতিরক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।
কোলবির মতে, মিত্র ও অংশীদাররা শক্তিশালী হলে আঞ্চলিক প্রতিরোধ ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী হয়। তবে এই কৌশল শুধু মার্কিন বাহিনীর ওপর নির্ভর করে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রথম দ্বীপশৃঙ্খলে প্রতিরোধ জোরদারের পরিকল্পনা
ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ক্ষমতার ভারসাম্য নিজেদের অনুকূলে রাখতে প্রথম দ্বীপশৃঙ্খল এলাকায় প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন কোলবি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ছে।
প্রথম দ্বীপশৃঙ্খল বলতে জাপান থেকে শুরু করে তাইওয়ান, ফিলিপাইন ও বোর্নিও পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলকে বোঝানো হয়।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া সফরে কোলবি
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া সফরের প্রথম গন্তব্য হিসেবে ফিলিপাইন সফর করছেন কোলবি। দেশটি এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে পুরোনো চুক্তিভিত্তিক মিত্র। সফরসূচিতে ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়াও রয়েছে।
কোলবি বলেন, মিত্রদের নিজেদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে বলা মানে তাদের ছেড়ে দেওয়া নয়। বরং যুক্তরাষ্ট্র এমন অংশীদার চায়, যারা নিজেদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে সক্ষম। তাঁর ভাষায়, অংশীদাররা শক্তিশালী হলে প্রতিরোধ ব্যবস্থাও শক্তিশালী হয়।
কসমিক ডেস্ক