সাভারের কমলাপুর এলাকায় অবস্থিত একটি মহিলা মাদরাসায় সপ্তম শ্রেণির এক আবাসিক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক মো. কামরুজ্জামান (৩৬)-এর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে।
শনিবার দুপুরে সাভার মডেল থানার ভবানীপুর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করেন। এর আগে শুক্রবার বিকেলে ঘটনাটি ঘটে বলে জানা যায়।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে ওই ছাত্রীকে বিভিন্ন সময়ে অশালীন কথাবার্তা বলতেন এবং শারীরিকভাবে অস্বস্তিকর আচরণ করতেন। অভিযোগে বলা হয়, তিনি ছাত্রীর গলায় হাত দিতেন এবং গাল টেনে ধরতেন।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগটি ঘটে শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে। ওই সময় মাদরাসার একটি বড় ক্লাসরুমে শিক্ষার্থীকে একা পেয়ে প্রধান শিক্ষক মো. কামরুজ্জামান তাকে ঝাপটে ধরেন এবং শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানি করেন বলে অভিযোগ করা হয়।
ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগী ছাত্রীর পরিবার বিষয়টি জানতে পেরে ক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং সাভার মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে।
শনিবার দুপুরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে তার নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর তাকে সাভার মডেল থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। রবিবার তাকে আদালতে পাঠানো হবে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে আদালতে জবানবন্দি প্রদানের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।
সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ইমরান হোসেন জানান, শ্লীলতাহানির অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে একটি ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন ঘটনার অভিযোগ ওঠায় অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। তারা দাবি করছেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাদরাসা ও আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিভাবকরা বলছেন, শিক্ষার্থীরা যেন নিরাপদ পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারে, সে জন্য প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার পূর্ণ সত্যতা যাচাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কসমিক ডেস্ক