মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী Marco Rubio কোয়াডভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আসন্ন বৈঠকে অংশ নিতে ভারতে পৌঁছেছেন। শনিবার ভোরে তিনি প্রথমে কলকাতায় পৌঁছান এবং চার দিনের সরকারি সফর শুরু করেন।
কোয়াড হলো ভারত, অস্ট্রেলিয়া, জাপান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বয়ে গঠিত একটি ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলগত জোট, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সহযোগিতা জোরদারে কাজ করে আসছে। এই সফরকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
কলকাতায় পৌঁছে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিওর প্রথম কর্মসূচি হিসেবে মাদার তেরেসা প্রতিষ্ঠিত দাতব্য সংস্থা Missionaries of Charity-এর সদর দপ্তর ‘মাদার হাউস’ পরিদর্শনের কথা রয়েছে। এটি তার সফরের একটি মানবিক ও প্রতীকী অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কলকাতার পর রুবিও আগ্রা ও জয়পুর সফর করবেন। আগ্রার ঐতিহাসিক স্থাপনা এবং জয়পুরের রাজকীয় ঐতিহ্য তাকে ভারতের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য সম্পর্কে ধারণা দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরপর তিনি নয়াদিল্লিতে পৌঁছে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Subrahmanyam Jaishankar-এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন।
এছাড়া তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সম্ভাবনাও রয়েছে। মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত কোয়াড পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে অংশ নেবেন।
এই সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সম্পর্ক উন্নয়নের প্রচেষ্টা। সাম্প্রতিক সময়ে বাণিজ্য শুল্ক ও নীতিগত কিছু ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে কিছুটা উত্তেজনা দেখা দিয়েছিল। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক নীতি ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য সম্পর্কে প্রভাব ফেলেছিল বলে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে রুবিওর সফরকে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক ও আরও শক্তিশালী করার একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি সফরের আগে বলেন, ভারত যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ মিত্র এবং দুই দেশের মধ্যে বহু গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতার ক্ষেত্র রয়েছে।
কোয়াড জোট দীর্ঘদিন ধরে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবের বিপরীতে একটি কৌশলগত ভারসাম্য হিসেবে কাজ করছে। দক্ষিণ চীন সাগরসহ বিভিন্ন অঞ্চলে চীনের অবস্থান নিয়ে জোটভুক্ত দেশগুলো নিয়মিতভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।
অন্যদিকে চীন দাবি করে, তাদের সামরিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষার অংশ। বেইজিং কোয়াডকে নিজেদের বিরুদ্ধে একটি কৌশলগত জোট হিসেবে দেখে আসছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মত।
রুবিওর এই সফর বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দায়িত্ব গ্রহণের পর কোয়াড পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে তার এটিই অন্যতম প্রধান কূটনৈতিক কার্যক্রম। এর আগে তিনি প্রথম আন্তর্জাতিক কর্মসূচি হিসেবেও কোয়াড বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলকে আরও শক্তিশালী করবে এবং ভারতসহ আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।
সব মিলিয়ে কলকাতা থেকে দিল্লি পর্যন্ত রুবিওর এই সফর শুধু কূটনৈতিক নয়, বরং ভূরাজনৈতিক দিক থেকেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক