গাজায় যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক বাহিনীতে সেনা পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে উগান্ডা। দেশটির সরকার এ বিষয়ে সংসদের অনুমোদন চাওয়ার পর বৃহস্পতিবার আইনপ্রণেতারা প্রস্তাবটি অনুমোদন করেছেন।
এ সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে জানা গেল, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’-এর প্রস্তাবিত ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স ফর গাজায় যোগ দিতে আগ্রহী উগান্ডা। এর আগে মরক্কোও এই বাহিনীতে সেনা পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
তবে উগান্ডা কেন এই মিশনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং এর বিনিময়ে কোনো ধরনের চুক্তি বা সুবিধা নির্ধারণ করা হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। বিষয়টি নিয়ে দেশটির বিরোধী দলের কয়েকজন আইনপ্রণেতা প্রশ্ন তুলেছেন। বিশেষ করে গাজার মতো সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে উগান্ডার সেনারা কোন পক্ষের হয়ে দায়িত্ব পালন করবে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
উগান্ডার প্রতিরক্ষামন্ত্রী জ্যাকব কিরিওওয়া কিওয়ানুকা সংসদে বলেন, সোমালিয়াসহ বিভিন্ন দেশে শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে উগান্ডার সেনাবাহিনীর। তাই গাজায় এ ধরনের দায়িত্ব পালনের সক্ষমতাও তাদের রয়েছে। প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক বাহিনীতে প্রায় ২০ হাজার সদস্য থাকার কথা রয়েছে এবং এর নেতৃত্ব দেওয়ার কথা মার্কিন মেজর জেনারেল জ্যাসপার জেফার্সের।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইসরায়েলি সেনাদের ধাপে ধাপে প্রত্যাহার শেষ হলে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী গাজায় মোতায়েন করা হবে। এর লক্ষ্য দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করা।
তবে এই পরিকল্পনা নিয়ে ইসরায়েলের উদ্বেগ রয়েছে। চুক্তির খসড়া প্রকাশের পর দেশটি জানিয়েছে, তাদের গুরুতর নিরাপত্তা উদ্বেগ রয়েছে এবং বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রকে জানানো হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সামনে আরও কূটনৈতিক আলোচনা প্রয়োজন হতে পারে।
কসমিক ডেস্ক