দেশের বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সাংবাদিকতার পরিচয়পত্র বা প্রেস কার্ড বিতরণ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সংসদে এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলে নীতিগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক।
তিনি বলেন, বর্তমানে অনেক জায়গায় এমন ব্যক্তিরাও সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করছেন, যাদের সাংবাদিকতা বিষয়ে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বা প্রশিক্ষণ নেই। এমনকি কেউ কেউ নিয়মিত রিপোর্টিংয়ের সঙ্গেও যুক্ত নন। ফলে সাংবাদিকতার পেশাগত মান ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কিছু ক্ষেত্রে ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাই-বাছাই ছাড়াই তথ্য প্রচার করা হচ্ছে, যা বিভ্রান্তি ও গুজব ছড়ানোর ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। তার মতে, কারা এসব সাংবাদিকতার কার্ড দিচ্ছে, কারা ব্যবহার করছে এবং তাদের যোগ্যতা কী—এসব বিষয়ে স্বচ্ছ তদন্ত প্রয়োজন।
সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, সাংবাদিকতার নামে অনিয়ন্ত্রিত কার্যক্রম বন্ধ না হলে গণমাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একই সঙ্গে এটি সামাজিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এ বিষয়ে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী সংসদে জানান, সরকার ইতোমধ্যে ভুল তথ্য (misinformation) ও অপতথ্য (disinformation) মোকাবিলায় কাজ করছে। তিনি বলেন, যারা আনুষ্ঠানিকভাবে সাংবাদিক হিসেবে নিবন্ধিত নন, তাদের মাধ্যমেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, এ ধরনের অপতৎপরতা রোধে একটি বিশেষ মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে। এই টিম অনলাইন ও অফলাইন উভয় মাধ্যমে নজরদারি করবে এবং যারা ভুয়া তথ্য বা অপতথ্য ছড়ানোর সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখবে।
তিনি বলেন, শিগগিরই এই মনিটরিং টিমের কাঠামো ও কার্যপরিধি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। সরকারের লক্ষ্য হলো সাংবাদিকতার মান রক্ষা করা এবং একই সঙ্গে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তথ্যের অপব্যবহার রোধ করা।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সময়ে ডিজিটাল মিডিয়া ও ইউটিউবভিত্তিক কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের কারণে তথ্য পরিবেশ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। তবে যথাযথ নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না থাকলে পেশাগত সাংবাদিকতা ও স্বাধীন তথ্য প্রবাহ উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
Journalism Ethics–এর আলোকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাংবাদিকতার পরিচয়পত্র ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, প্রশিক্ষণ এবং নিবন্ধন প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা জরুরি। অন্যথায় ভুয়া পরিচয় ও অপতথ্যের বিস্তার আরও বাড়তে পারে।
সব মিলিয়ে সংসদে ওঠা এই ইস্যু দেশের গণমাধ্যম নীতিমালা ও ডিজিটাল তথ্য ব্যবস্থাপনার ভবিষ্যৎ কাঠামো নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
কসমিক ডেস্ক