ইরানের সম্ভাব্য মিসাইল হামলার হুমকির মধ্যে সফরসঙ্গী সাংবাদিক, নিরাপত্তাকর্মী ও স্টাফদের ঝুঁকিপূর্ণ বিমানে রেখে নিজে গোপনে বিমান বদল করায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও হোয়াইট হাউসের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কয়েকজন সাংবাদিক। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সফরসঙ্গী গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে গত ৮ জুলাই তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারা থেকে ট্রাম্পের ফেরার সময়। এর আগের দিন কাতার রাজপরিবারের দেওয়া নতুন রাজকীয় বিমানে করে তিনি তুরস্কে গিয়েছিলেন। বিমানটি ছিল বিলাসবহুল হলেও এতে মিসাইল প্রতিরোধী ব্যবস্থা ছিল না। বিপরীতে পুরোনো এয়ারফোর্স ওয়ানে এ ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল।
ফেরার সময় নতুন বিমানের পরিবর্তে পুরোনো বিমানে ট্রাম্পের ফেরার কথা জানানো হলেও তখন এর পেছনে নিরাপত্তাজনিত কারণ প্রকাশ করা হয়নি। পরে জানা যায়, ইরানের সম্ভাব্য মিসাইল হামলার আশঙ্কার কারণে ট্রাম্পকে নিরাপদ বিমানে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল।
ট্রাম্প প্রকাশ্যে পুরোনো এয়ারফোর্স ওয়ানে ওঠার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কিছু সময় কথা বলেন। এরপর গোপনে বিকল্প পথ দিয়ে বেরিয়ে খাবার সরবরাহের একটি ভ্যানে চড়ে রানওয়েতে অপেক্ষমাণ ছোট সামরিক বিমানে ওঠেন এবং আঙ্কারা ছাড়েন। অন্যদিকে তাঁর সফরসঙ্গী সাংবাদিক ও স্টাফরা আগের বিমানেই থেকে যান।
পরে ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে ট্রাম্পের বিমান বদলের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি সিক্রেট সার্ভিসের পরামর্শেই বিমান পরিবর্তন করেছিলেন।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর সাংবাদিকদের কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, তাদের অজান্তেই সম্ভাব্য ঝুঁকির মধ্যে রাখা হয়েছিল। এক সাংবাদিকের ভাষ্য, প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সাংবাদিকদের দায়িত্ব নয়; তাদের দায়িত্ব প্রেসিডেন্টের কার্যক্রম সংবাদ হিসেবে তুলে ধরা।
তবে সাংবাদিকদের ঝুঁকিতে রেখে বিমান পরিবর্তনের বিষয়ে এখন পর্যন্ত ট্রাম্প বা হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
কসমিক ডেস্ক