ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ, ১১ হাজার শূকর মারছে সার্বিয়া The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ, ১১ হাজার শূকর মারছে সার্বিয়া

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 10, 2026 ইং
ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ, ১১ হাজার শূকর মারছে সার্বিয়া ছবির ক্যাপশন: আফ্রিকান সোয়াইন ফিভারের বিস্তার ঠেকাতে সার্বিয়ার একটি খামারে ১১ হাজার শূকর নিধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

আফ্রিকান সোয়াইন ফিভারের (ASF) সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে সার্বিয়া। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের একটি খামারে ১১ হাজার শূকর নিধন শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বুধবার সার্বিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তানজুগ কৃষিমন্ত্রী দ্রাগান গ্ল্যামোচিচের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পশ্চিমাঞ্চলের হ্রতকোভচি গ্রামের ওই খামারে কয়েক দিন ধরে পর্যায়ক্রমে এই নিধন কার্যক্রম চলবে। ভাইরাসটি যাতে আশপাশের খামার বা বন্য শূকরের মধ্যে আরও ছড়িয়ে না পড়ে, সে লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কৃষিমন্ত্রী দ্রাগান গ্ল্যামোচিচ বলেন, পুরো কার্যক্রম আন্তর্জাতিক প্রাণিস্বাস্থ্যবিষয়ক নির্দেশনা অনুসরণ করে পরিচালিত হচ্ছে। শূকরগুলোকে যন্ত্রণাহীন পদ্ধতিতে নিধন করা হচ্ছে এবং পরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিরাপদভাবে অপসারণ করা হবে।

তিনি আরও জানান, এই সিদ্ধান্তে ক্ষতিগ্রস্ত খামার মালিকদের আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে দিতে সরকার ক্ষতিপূরণ দেবে। ফলে খামারিরা যেন বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকটে না পড়েন, সে বিষয়েও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

বর্তমানে সার্বিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে আফ্রিকান সোয়াইন ফিভারের একাধিক সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। বিশেষ করে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা এবং ক্রোয়েশিয়া সীমান্তবর্তী মাচভা অঞ্চলে গত দুই মাসে হাজার হাজার শূকর নিধন করা হয়েছে। ভাইরাসটির বিস্তার রোধে দেশটির প্রাণিসম্পদ বিভাগ নজরদারি আরও জোরদার করেছে।

আফ্রিকান সোয়াইন ফিভার একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা গৃহপালিত ও বন্য শূকরের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে এই রোগের কার্যকর কোনো ভ্যাকসিন বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। ফলে সংক্রমণ দেখা দিলে আক্রান্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ পশু নিধনই সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত হয়।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আফ্রিকান সোয়াইন ফিভার মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয় এবং এটি মানুষের শরীরে সংক্রমণ ঘটায় না। তবে এটি শূকর শিল্পের জন্য মারাত্মক অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হতে পারে। একটি খামারে ভাইরাস শনাক্ত হলে অল্প সময়ের মধ্যেই পুরো খামারে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে।

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আফ্রিকান সোয়াইন ফিভারের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এর ফলে প্রাণিসম্পদ খাত রক্ষায় অনেক দেশ কঠোর নজরদারি, চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যাপক শূকর নিধনের মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

সার্বিয়া সরকারও একই ধরনের কৌশল অনুসরণ করছে। পাশাপাশি খামারিদের বায়োসিকিউরিটি বা খামারের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে ভাইরাসের বিস্তার কমানো সম্ভব হয়।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
বিশ্বকাপ বর্জনের আলোচনার মধ্যেই দল ঘোষণা করল পাকিস্তান

বিশ্বকাপ বর্জনের আলোচনার মধ্যেই দল ঘোষণা করল পাকিস্তান