ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন ও রাশিয়ার প্রতিনিধিদের শান্তি আলোচনা চলাকালেই ইউক্রেনে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। শনিবার (২৩ জানুয়ারি) ভোরে চালানো এই হামলায় ইউক্রেনের দুই বৃহত্তম শহর কিয়েভ ও খারকিভ কেঁপে ওঠে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে শুক্রবার রুদ্ধদ্বার বৈঠকের মাধ্যমে শান্তি আলোচনা শুরু হয়। আলোচনার দ্বিতীয় দিনের বৈঠক শনিবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও এর মধ্যেই রাশিয়ার বিমান হামলার খবর সামনে আসে। প্রায় চার বছর ধরে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত একটি পরিকল্পনা নিয়ে এই আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।
ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শনিবার সকাল পর্যন্ত চলা হামলায় রাজধানী কিয়েভে অন্তত একজন নিহত হয়েছেন এবং ২০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। হামলার ফলে শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ ও পানির সংকট দেখা দিয়েছে। বহু অঞ্চল এখন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎস্কো জানান, রুশ ড্রোন হামলায় শহরের বিভিন্ন ভবনে আগুন ধরে যায়। এ পর্যন্ত একজন নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে এবং আহত চারজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। উদ্ধার ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে রুশ সীমান্ত থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ইউক্রেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভেও ব্যাপক হামলা চালানো হয়। শহরের মেয়র ইহর তেরেখভ বলেন, মাত্র আড়াই ঘণ্টার মধ্যে অন্তত ২৫টি ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন এবং বেশ কয়েকটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
শুক্রবার আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত রুদ্ধদ্বার বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের তিনজন প্রতিনিধি অংশ নেন। তাদের মধ্যে ছিলেন স্টিভ উইটকফ এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারাড কুশনার। তবে বৈঠকের আলোচ্য বিষয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
এ বিষয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো এক বার্তায় বলেন, শান্তি আলোচনায় অংশ নেওয়া ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তার সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে। তিনি আলোচনার অগ্রগতি সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজখবর রাখছেন বলেও জানান।
শান্তি আলোচনা চলাকালেই এমন হামলায় যুদ্ধের ভবিষ্যৎ ও আলোচনার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে।
কসমিক ডেস্ক