পিউ গবেষণা: বিশ্বের অনেক দেশে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে চীনের গ্রহণযোগ্যতা বেশি The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

পিউ গবেষণা: বিশ্বের অনেক দেশে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে চীনের গ্রহণযোগ্যতা বেশি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 16, 2026 ইং
পিউ গবেষণা: বিশ্বের অনেক দেশে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে চীনের গ্রহণযোগ্যতা বেশি ছবির ক্যাপশন:

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চীনের গ্রহণযোগ্যতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে তা যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সেন্টারের সর্বশেষ বৈশ্বিক জরিপে উঠে এসেছে এমন চিত্র। ২০০২ সালে এই জরিপ শুরু হওয়ার পর এবারই প্রথম এত বেশি দেশে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় চীনকে বেশি ইতিবাচকভাবে দেখার প্রবণতা দেখা গেল।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত পরিচালিত এ জরিপে বিশ্বের ৩৬টি দেশের ৪২ হাজারের বেশি মানুষের মতামত নেওয়া হয়। অংশগ্রহণকারীদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, তারা চীন ও যুক্তরাষ্ট্রকে কতটা ইতিবাচক বা নেতিবাচকভাবে দেখেন।

জরিপের ফল অনুযায়ী, ৩৬টি দেশের মধ্যে ২৫টিতেই চীনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় বেশি। অন্যদিকে মাত্র ছয়টি দেশে—পোল্যান্ড, ফিলিপাইন, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, জাপান ও ইসরায়েল—যুক্তরাষ্ট্রকে চীনের চেয়ে বেশি ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে। এসব দেশের বেশিরভাগই ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের কৌশলগত মিত্র।

পিউ রিসার্চের গবেষক জনাথন শুলম্যান বলেন, গত দুই দশকের গবেষণায় এবারই প্রথম এত বড় পরিসরে চীন যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে গেছে। তার মতে, অতীতেও যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয়তা কমেছে, বিশেষ করে জর্জ ডব্লিউ বুশ প্রশাসনের শেষ দিকে এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের শুরুতে। তবে এবার চীনের ইতিবাচক ভাবমূর্তির বৃদ্ধি ছিল সবচেয়ে লক্ষণীয়।

জরিপে দেখা গেছে, স্পেন, ইতালি, ইন্দোনেশিয়া, গ্রিস ও কানাডায় চীনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এছাড়া ইতালি, স্পেন, কলম্বিয়া, মেক্সিকো, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া ও তুরস্কে চীন সম্পর্কে ইতিবাচক মতামত ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

দেশভিত্তিক ফলাফলে দেখা যায়, পাকিস্তানে প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ চীনকে ইতিবাচকভাবে দেখেন, যা জরিপে সর্বোচ্চ। বিপরীতে জাপানে মাত্র ১১ শতাংশ উত্তরদাতা চীন সম্পর্কে ইতিবাচক মত দিয়েছেন।

জরিপে বিশ্বনেতাদের প্রতিও মানুষের আস্থা পরিমাপ করা হয়। এতে দেখা যায়, ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিনপিং—দুজনের প্রতিই আস্থার হার অধিকাংশ দেশে ৫০ শতাংশের নিচে। তবে অনেক দেশেই ট্রাম্পের তুলনায় শি জিনপিংয়ের প্রতি মানুষের আস্থা কিছুটা বেশি।

শি জিনপিংয়ের প্রতি সবচেয়ে বেশি আস্থা প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের ৮৩ শতাংশ উত্তরদাতা। অন্যদিকে সবচেয়ে কম আস্থা দেখা গেছে জাপানে, যেখানে মাত্র ৭ শতাংশ মানুষ তার ওপর আস্থা রেখেছেন। ট্রাম্পের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি আস্থা পাওয়া গেছে ফিলিপাইনে (৬৮ শতাংশ) এবং সবচেয়ে কম পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে (৪ শতাংশ)

জরিপে আরও উঠে এসেছে যে, এখনো অনেক মানুষ মনে করেন ব্যক্তিগত স্বাধীনতার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র চীনের তুলনায় বেশি সম্মানজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে এই ব্যবধান আগের তুলনায় কমেছে। অন্যদিকে মধ্যম আয়ের দেশগুলোর অতিরিক্ত জরিপে ৭৫ শতাংশ মানুষ মনে করেন যুক্তরাষ্ট্র অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ করে, যেখানে চীনের ক্ষেত্রে একই মত দিয়েছেন ৪৫ শতাংশ উত্তরদাতা।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির ঘন ঘন পরিবর্তন, শক্তি প্রয়োগের প্রবণতা এবং অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের কারণে অনেক দেশ চীনকে তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ও পূর্বানুমানযোগ্য অংশীদার হিসেবে দেখতে শুরু করেছে। তবে একই সঙ্গে শি জিনপিংয়ের নেতৃত্ব, মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং সংখ্যালঘুদের প্রতি নীতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগও রয়ে গেছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
আমেরিকা-ইসরাইল-ইউরোপের বিরুদ্ধে একসঙ্গে যুদ্ধের হুঙ্কার ইরান

আমেরিকা-ইসরাইল-ইউরোপের বিরুদ্ধে একসঙ্গে যুদ্ধের হুঙ্কার ইরান