নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কোটাকোল ইউনিয়নের মাটিয়াডাঙ্গা গ্রামে ঘুড়ি উড়ানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানিয়েছে। ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১২টার দিকে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই এলাকার মোল্যা গ্রুপ এবং মুন্সি গ্রুপের মধ্যে ঘুড়ি উড়ানোকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধ ধীরে ধীরে উত্তেজনায় রূপ নেয় এবং শেষ পর্যন্ত সংঘর্ষে পরিণত হয়। রাতের আঁধারে দুই পক্ষ মুখোমুখি হলে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
সংঘর্ষে উভয় পক্ষের একাধিক ব্যক্তি আহত হন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন মুন্সি গ্রুপের মিজানুর মুন্সি (৫২), ইজাজুল মুন্সি (৪০), আজিজুল মুন্সি (৪২), হানিফ সরদার (৩৫), খাজা সরকার (৬১), আজাদ সরদার এবং মোল্যা গ্রুপের রবিউল ইসলাম (৩৬), বাচ্চু মোল্যা (৫৩), রাফেজা বেগম (৫৩) ও সাইদুর সরদার (৩২)।
সংঘর্ষের সময় এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা জানান, দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এবং উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষের খবর পাওয়ার পরপরই লোহাগড়া থানার একটি দল ঘটনাস্থলে যায় এবং উভয় পক্ষকে সরিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। আহতদের দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং তারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
লোহাগড়া থানার ওসি (তদন্ত) অজিত কুমার রায় জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে নতুন করে কোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়। তিনি আরও জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য অভিযান চলছে।
স্থানীয়রা বলছেন, একটি সাধারণ ঘুড়ি উড়ানোর বিষয়কে কেন্দ্র করে এমন সহিংস সংঘর্ষ দুঃখজনক। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলা ব্যক্তিগত ও সামাজিক বিরোধই এ ঘটনার মূল কারণ হয়ে থাকতে পারে। গ্রামবাসীর মধ্যে এ ঘটনায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রামীণ পর্যায়ে ছোটখাটো বিষয় নিয়ে সংঘর্ষের প্রবণতা সামাজিক সচেতনতার অভাব এবং বিরোধ নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা না থাকার ফল। এ ধরনের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা প্রয়োজন।
এ ঘটনায় কোটাকোল ইউনিয়ন ও মাটিয়াডাঙ্গা গ্রামজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানা গেছে।
কসমিক ডেস্ক