একাকিত্ব দূর করে মুরগি, বলছেন মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

একাকিত্ব দূর করে মুরগি, বলছেন মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Feb 24, 2026 ইং
একাকিত্ব দূর করে মুরগি, বলছেন মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক ছবির ক্যাপশন:

একাকিত্ব দূর করা ও মানসিক চাপ কমানোর ক্ষেত্রে পোষা প্রাণীর ভূমিকা নতুন কিছু নয়। তবে সাধারণত কুকুর বা বিড়ালকেই এই তালিকায় দেখা যায়। কানাডার এক মনোবিজ্ঞান অধ্যাপক সেই ধারণায় ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছেন। তার পোষা প্রাণী কোনো কুকুর বা বিড়াল নয়—একটি মুরগি।

কানাডার মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক সোনিয়া কং পোষা প্রাণীর সঙ্গে মানুষের আবেগগত সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। পোষা প্রাণী কীভাবে সুস্থ ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে সহায়তা করে—শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের সেই পাঠই দেন তিনি।

এই গবেষণার সঙ্গে অধ্যাপক সোনিয়ার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাও জড়িয়ে আছে। মানসিক চাপ সামলাতে তার পোষা প্রাণী তাকে দারুণভাবে সাহায্য করে বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে এই পোষা প্রাণীটি প্রচলিত ধারণার বাইরে। তিনি একটি মুরগি পোষেন, যার নাম রেখেছেন ‘স্যাটার ডে’।

সোনিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, দৈনন্দিন জীবনে আবেগ সামলাতে মুরগিটি তাকে ভীষণ সহায়তা করে। CBC News-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন,
“আমার মনে হয়, সে খুবই বুদ্ধিদীপ্ত। সে আমার আবেগ বুঝতে পারে।”

পোষা মুরগিটির বয়স বর্তমানে ১১ মাস। ব্রিটিশ কলম্বিয়ার প্রিন্স জর্জ শহরের কাছের একটি খামার থেকে সেটি কিনে আনেন সোনিয়া। তার ভাষায়, মন খারাপ থাকলে ‘স্যাটার ডে’ তার পাশে এসে বসে থাকে, তাকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে।

তিনি বলেন,
“যখন আমার মন খারাপ থাকে, সে আমার পাশে বসে থাকে। হয়তো সে বোঝার চেষ্টা করে আমার ভেতরে কী চলছে। যেন বলতে চায়—কেন তুমি কাঁদছ? আমার কাছে এটা অনেক কিছু।”

শুধু বাসার মধ্যেই নয়, শহরে ঘোরার সময়ও তিনি মুরগিটিকে সঙ্গে রাখেন। এজন্য বিশেষভাবে তৈরি একটি ডায়াপার ব্যবহার করেন, যাতে বাইরে চলাফেরায় কোনো সমস্যা না হয়।

অধ্যাপক সোনিয়া বর্তমানে নর্দার্ন ব্রিটিশ কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়-এ কর্মরত। তিনি এখন একটি অনলাইন জরিপ পরিচালনা করছেন, যেখানে কিশোর-কিশোরীদের সামাজিক ও মানসিক বিকাশে পোষা প্রাণীর প্রভাব নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

এই আন্তর্জাতিক গবেষণায় তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন হংকংয়ের চাইনিজ ইউনিভার্সিটি অব হংকং-এর সহকারী অধ্যাপক ট্রেসি ওয়ং। গবেষণার মাধ্যমে তারা বোঝার চেষ্টা করছেন—পোষা প্রাণীর সঙ্গে সম্পর্ক কীভাবে মানুষের আবেগ, সহমর্মিতা ও সামাজিক দক্ষতা গড়ে তোলে।

তবে সোনিয়ার এই ব্যতিক্রমী পোষা প্রাণী নিয়ে তার পরিবারের সদস্যরা এখনো পুরোপুরি অভ্যস্ত হয়ে উঠতে পারেননি। মা–বাবা মাঝেমধ্যে মজা করে তাকে প্রশ্ন করেন—মুরগিটিকে খাওয়ার কোনো পরিকল্পনা আছে কি না।

এই প্রশ্নে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সোনিয়া বলেন,
“আমি বলি, আমি কখনোই এমনটা করব না। সে আমার পোষা প্রাণী। এটা আসলে সাংস্কৃতিক পার্থক্য বা মতভেদের বিষয়।”

অধ্যাপক সোনিয়ার অভিজ্ঞতা ও গবেষণা পোষা প্রাণী নিয়ে প্রচলিত ধারণাকে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করছে। তার মতে, আবেগ বোঝার ক্ষমতা শুধু নির্দিষ্ট কিছু প্রাণীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়—সঠিক সম্পর্ক গড়ে উঠলে যে কোনো প্রাণীই মানুষের মানসিক সঙ্গী হয়ে উঠতে পারে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
পার্থর আসন ছেড়ে দিল বিএনপি

পার্থর আসন ছেড়ে দিল বিএনপি