জাপানের রাজধানী টোকিও ও আশপাশের এলাকায় রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাতে ব্যাপক জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রবল বর্ষণে রাস্তাঘাট, রেললাইন ও বাড়িঘর প্লাবিত হয়ে অন্তত আটজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে টোকিওর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় ৭ হাজার যাত্রী আটকা পড়েছেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টোকিওর সীমান্তবর্তী চিবা প্রিফেকচারের কয়েকটি এলাকায় ২৪ ঘণ্টায় ৩৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই পরিমাণ বৃষ্টিপাত ২০১৩ সালের অক্টোবরে ওই অঞ্চলে রেকর্ড হওয়া ৩০৯ মিলিমিটারের আগের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে।
অস্বাভাবিক ভারি বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। অনেক বাড়িঘরও পানিতে প্লাবিত হয়েছে। আকস্মিক এই দুর্যোগে স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পরিবহন ব্যবস্থায়ও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।
পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে বিমান যোগাযোগে। টোকিওর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় ৭ হাজার যাত্রী আটকা পড়েছেন। ভারি বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ফ্লাইট পরিচালনায় বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় যাত্রীরা দীর্ঘ সময় ধরে বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছেন।
চিবা অঞ্চলে এক দিনের বৃষ্টিপাত আগের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতির গুরুত্ব আরও বেড়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে পানি দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন স্থানে জনজীবন ও যোগাযোগ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এদিকে, ভারি বৃষ্টিতে মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
জাপানের মতো দুর্যোগপ্রবণ দেশে অতিবৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যা নতুন নয়। তবে টোকিও ও চিবা অঞ্চলে এবার স্বল্প সময়ে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হওয়ায় পরিস্থিতি বিশেষভাবে গুরুতর হয়ে উঠেছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে আরও কিছু এলাকায় পানি বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কসমিক ডেস্ক