প্রায় দুই মাসের বিরতির পর লেবাননে ভ্রমণের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশটির নাগরিকরা আবারও লেবানন সফরের সুযোগ পাচ্ছেন। তবে সফরের আগে সবাইকে বাধ্যতামূলকভাবে ইউএইর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধন করতে হবে।
মঙ্গলবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ইউএই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লেবাননে ভ্রমণকারী আমিরাতি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনে দ্রুত সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে এই নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু রাখা হয়েছে। এটি দেশটির নিরাপত্তা ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার অংশ হিসেবে কার্যকর থাকবে।
এর আগে গত ৩০ এপ্রিল মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরান, লেবানন এবং ইরাকে ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। একই সঙ্গে ওই তিন দেশে অবস্থানরত আমিরাতি নাগরিকদের দ্রুত দেশে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শুধুমাত্র লেবাননের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে ইরান ও ইরাকে ভ্রমণের ক্ষেত্রে আগের সব বিধিনিষেধ এখনো বহাল রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই দুই দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
ইউএইর এই পদক্ষেপকে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে আঞ্চলিক উত্তেজনা কিছুটা কমে আসার ফলে কয়েকটি ক্ষেত্রে স্বাভাবিক কার্যক্রম ধীরে ধীরে পুনরায় চালু হচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতায় প্রথমবারের মতো ইরান ও দুবাইয়ের মধ্যে বাণিজ্যিক বিমান চলাচলও পুনরায় শুরু হয়েছে। এতে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম আবার সচল হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। তবে বিমান চলাচল পুনরায় চালু হলেও ইরানে ভ্রমণের ক্ষেত্রে ইউএইর নাগরিকদের জন্য আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এখনো প্রত্যাহার করা হয়নি।
লেবাননে ভ্রমণের অনুমতি পুনর্বহাল হলেও দেশটির নাগরিকদের জন্য নতুন নিবন্ধন ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের মতে, বিদেশে অবস্থানরত নাগরিকদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংরক্ষণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত যোগাযোগ নিশ্চিত করতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল না হওয়ায় ইউএই পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন দেশের জন্য ভ্রমণ নীতিমালা পর্যালোচনা করছে। সর্বশেষ সিদ্ধান্তে লেবাননের ক্ষেত্রে কিছুটা শিথিলতা এলেও ইরান ও ইরাকের ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থান বজায় রাখা হয়েছে।
পরিস্থিতির উন্নতির ওপর নির্ভর করে ভবিষ্যতে ভ্রমণসংক্রান্ত নীতিতে আরও পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আপাতত লেবানন সফরের ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি হলেও ইরান ও ইরাকে ভ্রমণের ওপর আগের নিষেধাজ্ঞাই বহাল থাকছে।
কসমিক ডেস্ক