দক্ষিণ আমেরিকা অনূর্ধ্ব-১৭ চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে হতাশাজনক হারের মুখে পড়েছে Brazil U-17 দল। প্যারাগুয়ের আসুনসিওনে অবস্থিত Defensores del Chaco Stadium-এ অনুষ্ঠিত ম্যাচে Colombia U-17 ৩-০ গোলের ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেয়।
ম্যাচের শুরুটা ছিল পুরোপুরি ব্রাজিলের দখলে। প্রথমার্ধে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে একের পর এক সুযোগ তৈরি করে তারা। তবে গোলের মুখ খুলতে ব্যর্থ হওয়ায় সেই আধিপত্য কোনো কাজে আসেনি। বেশ কয়েকটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ হাতছাড়া করে ব্রাজিল নিজেদেরই চাপ বাড়িয়ে তোলে।
প্রথমার্ধে এদুয়ার্দো পাপে কাছ থেকে নেওয়া একটি শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। একইভাবে এদুয়ার্দো কনসেইসাও একাধিকবার গোলের চেষ্টা করলেও প্রতিবারই বাধা হয়ে দাঁড়ান কলম্বিয়ার গোলরক্ষক লুইজি। তার দুর্দান্ত সেভ ব্রাজিলের হতাশা আরও বাড়িয়ে দেয়। জোয়াও বেজেরার নেওয়া শটও দক্ষতার সঙ্গে ঠেকিয়ে দেন তিনি।
ম্যাচের ১৪ মিনিটে একটি বিতর্কিত মুহূর্ত সৃষ্টি হয়, যখন ব্রাজিলের স্যামুয়েল আলমেইদা প্রতিপক্ষের বক্সে ফাউলের শিকার হন বলে দাবি ওঠে। তবে রেফারি সেটিকে পেনাল্টি হিসেবে বিবেচনা করেননি, যা নিয়ে মাঠে ও দর্শকদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়।
দ্বিতীয়ার্ধে খেলার গতি কিছুটা সমানতালে চললেও গোলের দেখা পায় কলম্বিয়া। ম্যাচের ৭ মিনিটে মস্কুয়েরার একটি দূরপাল্লার শট ক্রসবারে লেগে গোললাইন অতিক্রম করে। রেফারি সেটিকে গোল হিসেবে স্বীকৃতি দেন, যদিও এ সিদ্ধান্ত নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়।
এই গোল হজমের পর ব্রাজিলের খেলায় ছন্দপতন দেখা যায়। সুযোগ তৈরি করলেও তা কাজে লাগাতে পারেনি তারা। এর বিপরীতে কলম্বিয়া দ্রুত পাল্টা আক্রমণে আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে।
দ্বিতীয়ার্ধের মধ্যভাগে একটি দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক থেকে এসকরসিয়া গোল করে ব্যবধান ২-০ করেন। এতে ম্যাচে ব্রাজিলের জন্য ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হয়ে পড়ে। এরপর যোগ করা সময়ে একটি ফ্রি-কিক থেকে আবারও গোল করে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোল নিশ্চিত করেন এসকরসিয়া।
৩-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর আর ম্যাচে ফেরার সুযোগ পায়নি ব্রাজিল। পুরো ম্যাচে বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত গোলের অভাবই তাদের বড় দুর্বলতা হয়ে দাঁড়ায়।
এই হারের ফলে ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভেঙে যায় ব্রাজিলের। অন্যদিকে, কলম্বিয়া দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে শিরোপার লড়াইয়ে নিজেদের জায়গা পাকা করে নেয়।
এখন ব্রাজিলকে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে অংশ নিতে হবে, যা অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৯ এপ্রিল। সেখানে জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করার লক্ষ্য থাকবে তাদের সামনে।
সব মিলিয়ে, এই ম্যাচটি ছিল সুযোগ নষ্ট বনাম সুযোগ কাজে লাগানোর একটি স্পষ্ট উদাহরণ, যেখানে কলম্বিয়া তাদের কার্যকারিতা দেখিয়ে জয় তুলে নেয়, আর ব্রাজিল ভুগেছে নিজেদের ব্যর্থতায়।
কসমিক ডেস্ক