যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েলি বাহিনীর নতুন করে হামলায় গাজা উপত্যকাজুড়ে অন্তত ১১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে তিনজন সাংবাদিক রয়েছেন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, গাজার বিভিন্ন এলাকায় চালানো এসব হামলায় আরও অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। তবে হামলার নির্দিষ্ট স্থান কিংবা নিহতদের পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল-বুরশ বার্তা সংস্থা আনাদোলুকে জানান, দক্ষিণ গাজায় চালানো একাধিক হামলায় প্রাণ হারানোদের মধ্যে তিনজন সাংবাদিক ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গাজার দেইর আল-বালাহ শহরের পূর্বাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনী গোলাবর্ষণ চালায়। এতে সেখানে অন্তত তিনজন নিহত হন। ১০ অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও প্রতিদিনই এ ধরনের হামলা অব্যাহত রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে গাজা সিটির পূর্বাঞ্চলেও বিমান হামলা চালানো হয়।
চিকিৎসা সূত্র জানায়, গাজা সিটিতে আরও তিনজন এবং দক্ষিণ গাজার বিভিন্ন এলাকায় আরও তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া উত্তর গাজা ও গাজা সিটিতে দুটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনী উত্তর গাজার শেখ জায়েদ এলাকার পূর্বদিকে অবস্থিত অবশিষ্ট ভবন ও স্থাপনাগুলো গুঁড়িয়ে দেয়। পাশাপাশি ইসরায়েলি নৌবাহিনীর জাহাজগুলো গাজা সিটির উপকূলে মেশিনগান থেকে গুলি চালায়।
এ ছাড়া হেলিকপ্টার ও সামরিক যান থেকে শহরের পূর্বাঞ্চলে গুলিবর্ষণ করা হয়। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের পূর্বাঞ্চলেও ইসরায়েলি সামরিক যান থেকে ভারী গোলাবর্ষণের খবর দিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
বর্তমানে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজার দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের তথাকথিত বাফার জোন এবং উত্তর গাজার বিস্তীর্ণ একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। এতে গাজার মোট ভূখণ্ডের ৫০ শতাংশের বেশি এলাকা কার্যত দখলদারিত্বের মধ্যে রয়েছে।
২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর শুরু হওয়া ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে, যা টানা দুই বছর ধরে চলমান, এখন পর্যন্ত ৭১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭১ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে।
২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৪৮৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১,২৮৭ জন আহত হয়েছেন। পাশাপাশি খাদ্য, আশ্রয় ও চিকিৎসা সহায়তা প্রবেশে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ থাকায় গাজার প্রায় ২৪ লাখ মানুষ তীব্র মানবিক সংকটের মুখে দিন কাটাচ্ছেন।