সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্কের সমন্বয়ে গড়তে যাচ্ছে ‘ইসলামিক ন্যাটো’ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্কের সমন্বয়ে গড়তে যাচ্ছে ‘ইসলামিক ন্যাটো’

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 15, 2026 ইং
সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্কের সমন্বয়ে গড়তে যাচ্ছে ‘ইসলামিক ন্যাটো’ ছবির ক্যাপশন:
ad728

ন্যাটোর সমষ্টিগত প্রতিরক্ষা কাঠামোর আদলে সৌদি আরব ও পাকিস্তানকে কেন্দ্র করে একটি নতুন প্রতিরক্ষা জোট গঠনের আলোচনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রস্তাবিত এই জোটকে অনেক বিশ্লেষক ‘ইসলামিক ন্যাটো’ হিসেবে অভিহিত করছেন। এতে যুক্ত হওয়ার জন্য তুরস্ক সক্রিয় আলোচনা চালাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশও এই জোটে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

টাইমস অব ইসলামাবাদের ১২ জানুয়ারির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরব ও পাকিস্তানভিত্তিক এই প্রতিরক্ষা কাঠামো ন্যাটোর মতোই সমষ্টিগত নিরাপত্তা নীতির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। ব্লুমবার্গের এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থায় ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫-এর অনুরূপ বিধান রাখা হয়েছে, যেখানে কোনো এক সদস্যের ওপর হামলাকে পুরো জোটের বিরুদ্ধে আগ্রাসন হিসেবে গণ্য করা হবে।

এই ত্রিপক্ষীয় জোটে দায়িত্ব বণ্টনের একটি স্পষ্ট কাঠামো নিয়ে আলোচনা চলছে। আংকারাভিত্তিক থিংকট্যাংক টেপাভ-এর কৌশলবিদ নিহাত আলী ওজচান জানান, সৌদি আরব এই জোটে আর্থিক সহায়তা দেবে। পাকিস্তান যুক্ত করবে তার পারমাণবিক প্রতিরোধক্ষমতা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ও প্রশিক্ষিত জনবল। আর তুরস্ক দেবে উন্নত সামরিক দক্ষতা ও নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা।

ওজচানের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যখন মধ্যপ্রাচ্যে নিজের এবং ইসরায়েলের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, তখন পরিবর্তিত আঞ্চলিক বাস্তবতা মুসলিম দেশগুলোকে নতুন নিরাপত্তা কাঠামো গড়তে উৎসাহিত করছে। এই প্রেক্ষাপটেই কে বন্ধু আর কে প্রতিপক্ষ—তা নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত সূত্রগুলো বলছে, দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার কিছু অংশে তুরস্কের কৌশলগত স্বার্থ ক্রমেই সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সঙ্গে একীভূত হচ্ছে। ফলে এই তিন দেশকে নিয়ে একটি সম্প্রসারিত জোট গঠনকে অনেকেই যৌক্তিক পরবর্তী ধাপ হিসেবে দেখছেন।

এরই মধ্যে তিন দেশ সামরিক সমন্বয় জোরদার করেছে। তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে আংকারায় তিন দেশের মধ্যে প্রথমবারের মতো একটি নৌবাহিনী-সংক্রান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি এই জোট গঠনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে তুরস্কের অংশগ্রহণ, কারণ দেশটি কেবল একটি আঞ্চলিক শক্তি নয়; এটি যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন ন্যাটোর দীর্ঘদিনের সদস্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের পর ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক বাহিনী তুরস্কেরই।

সৌদি আরব ও তুরস্ক—উভয় দেশেরই শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ ইরানকে ঘিরে দীর্ঘদিনের উদ্বেগ রয়েছে, যদিও তারা সরাসরি সামরিক সংঘাতের বদলে কূটনৈতিক সম্পৃক্ততাকে বেশি গুরুত্ব দেয়। একই সঙ্গে দুই দেশই একটি স্থিতিশীল, সুন্নি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ার পক্ষে এবং ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সমর্থক।

অন্যদিকে পাকিস্তানের সঙ্গে তুরস্কের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বহুদিনের। তুরস্ক ইতোমধ্যে পাকিস্তান নৌবাহিনীর জন্য কর্ভেট যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ করেছে, এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের আধুনিকীকরণে সহায়তা দিয়েছে এবং সৌদি আরব ও পাকিস্তান—উভয়ের সঙ্গেই ড্রোন প্রযুক্তি ভাগাভাগি করছে। এর আগে তুরস্ক তাদের কা’ন পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান প্রকল্পে সৌদি আরব ও পাকিস্তানকে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানিয়েছে।

এই ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা আলোচনা এগোচ্ছে এমন এক সময়ে, যখন ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চার দিনের সামরিক উত্তেজনার পর একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। ‘অপারেশন সিন্দূর’ নামে পরিচিত সেই সংক্ষিপ্ত সংঘাত পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশীদের মধ্যে নতুন করে নিরাপত্তা ভাবনার জন্ম দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তিত আঞ্চলিক বাস্তবতা সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ককে একটি যৌথ প্রতিরক্ষা কাঠামোর দিকে আরও দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে, যা ভবিষ্যতে মুসলিম বিশ্বের নিরাপত্তা রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
স্বাভাবিক এসেছে খালেদা জিয়ার সিটি স্ক্যান, জানাল মেডিকেল বোর

স্বাভাবিক এসেছে খালেদা জিয়ার সিটি স্ক্যান, জানাল মেডিকেল বোর