আন্দোলনের মুখে কঠোর অবস্থানে খামেনি, পিছু হটার প্রশ্নই নেই The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

আন্দোলনের মুখে কঠোর অবস্থানে খামেনি, পিছু হটার প্রশ্নই নেই

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 11, 2026 ইং
আন্দোলনের মুখে কঠোর অবস্থানে খামেনি, পিছু হটার প্রশ্নই নেই ছবির ক্যাপশন:
ad728

গত তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে তীব্র সরকারবিরোধী আন্দোলনে উত্তাল ইরান। দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ দমনে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ইন্টারনেট কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬২ জন নিহত হয়েছেন বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে। গ্রেপ্তার হয়েছেন দুই হাজারের বেশি মানুষ।

এই পরিস্থিতিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা দিয়েছেন, সরকার কোনো অবস্থাতেই পিছু হটবে না। গতকাল দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি আন্দোলনকারীদের ‘নাশকতাকারী’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এই বিক্ষোভ বিদেশি ষড়যন্ত্রে উসকানি দেওয়া হয়েছে।

খামেনির অভিযোগ, আন্দোলনকারীরা ইচ্ছাকৃতভাবে রাস্তাঘাট ও অবকাঠামো ধ্বংস করছে, যাতে বিদেশি শক্তিগুলো সন্তুষ্ট হয়। তার বক্তব্যে পরোক্ষভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

এই উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ইরানের জনগণের প্রতি ওয়াশিংটনের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সময়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানি নেতৃত্বকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, গুলি চালানো শুরু করলে তার পাল্টা প্রতিক্রিয়া হবে।

এরপর ইরানের সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, তারা কৌশলগত অবকাঠামো ও জনসম্পত্তি রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। একই সঙ্গে ‘শত্রুর ষড়যন্ত্র’ মোকাবিলায় জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়। সেনাবাহিনী অভিযোগ করে, ইসরায়েল ও কয়েকটি শত্রুভাবাপন্ন গোষ্ঠী দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে।

আন্দোলনের সূচনা হয় মুদ্রা রিয়ালের ভয়াবহ দরপতনের পর। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই এই বিক্ষোভ রাজনৈতিক সংস্কার ও শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের দাবিতে রূপ নেয়। গত ২৮ ডিসেম্বর শুরু হওয়া আন্দোলন দ্রুত সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে রাতভর স্লোগান, হাততালি ও হাড়ি-পাতিল বাজিয়ে বিক্ষোভ করতে দেখা যায়।

অনেক বিশ্লেষক বর্তমান আন্দোলনকে ২০২২-২৩ সালের মাহসা আমিনি-পরবর্তী আন্দোলনের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখছেন। তবে এবার পরিস্থিতি আরও জটিল বলে মনে করা হচ্ছে, কারণ অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা সরকারকে চাপে ফেলেছে।

নরওয়েভিত্তিক ইরান হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে অন্তত নয়জন শিশু রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন হেংগাও ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অভিযোগ করেছে, ইন্টারনেট বন্ধ রেখে প্রকৃত পরিস্থিতি আড়াল করার চেষ্টা করছে সরকার। নেটব্লকস জানিয়েছে, ৩৬ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে দেশজুড়ে ইন্টারনেট কার্যত অচল।

এদিকে নির্বাসিত যুবরাজ রেজা সিরি পাহলাভি আন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে দেশব্যাপী বিক্ষোভের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট ব্যবহার করে সরকার তরুণ আন্দোলনকারীদের দমন করতে চাইছে। যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত এই সাবেক যুবরাজ ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকেই ইরানি শাসনব্যবস্থার কড়া সমালোচক।

তেহরানের এক তরুণ শিল্পী জানান, নিরাপত্তা বাহিনী ও মিলিশিয়ারা মোটরসাইকেলে করে জনতার ভেতরে ঢুকে গুলি চালাচ্ছে। তার ভাষ্য, পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে এবং সামনে আরও প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।

শুক্রবার প্রথমবারের মতো ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আন্দোলনের কথা স্বীকার করলেও একে ‘সন্ত্রাসীদের তাণ্ডব’ বলে উল্লেখ করে। তারা দাবি করে, ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের এজেন্টরা বিক্ষোভে জড়িত।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র এসব অভিযোগ নাকচ করে বলেছে, ইরানের বক্তব্য বাস্তবতাবিবর্জিত।

সব মিলিয়ে অর্থনৈতিক সংকট, রাজনৈতিক ক্ষোভ ও আন্তর্জাতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরান এক গভীর অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সরকার কঠোর অবস্থান বজায় রাখলেও আন্দোলনের গতি থামার কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিতে সাঁতারে নামলেন ২ নারীসহ ৩৫ সাঁতারু

বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিতে সাঁতারে নামলেন ২ নারীসহ ৩৫ সাঁতারু