অরুণাচল প্রদেশের বিভিন্ন এলাকার নাম পরিবর্তনের চীনা উদ্যোগের জবাবে ২৭টি কৌশলগত ও ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ স্থান ভারতের সরকারি মানচিত্রে আনুষ্ঠানিকভাবে চিহ্নিত করেছে নয়াদিল্লি। শুক্রবার (৭ আগস্ট) ভারতের সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়, ‘সার্ভে অব ইন্ডিয়া’র মানচিত্রে এসব স্থান তাদের প্রচলিত নামেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অঞ্চলগুলোর সঠিক ভৌগোলিক অবস্থান নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোই এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য বলে জানানো হয়েছে।
ভারত দীর্ঘদিন ধরে অরুণাচল প্রদেশের বিভিন্ন স্থানের নাম পরিবর্তনে চীনের উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে। নয়াদিল্লির বক্তব্য, চীনের দেওয়া কাল্পনিক নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে অরুণাচল প্রদেশের অবস্থান বা ভারতের সঙ্গে এর সম্পর্কের বাস্তবতা পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।
ভারতের সরকারি মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত ২৭টি স্থানের মধ্যে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (LAC) সংলগ্ন বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা রয়েছে। এর মধ্যে আপার সুবানসিরি জেলার লং জু ও মাজা গ্রাম উল্লেখযোগ্য। ১৯৫৯ সালে চীনা বাহিনীর সীমান্ত অতিক্রমের পর লং জু এলাকায় ভারত ও চীনের বাহিনীর মধ্যে সামরিক সংঘর্ষ হয়েছিল।
তালিকায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ থাগ লা গিরিপথও রয়েছে। ১৯৬২ সালের ভারত-চীন যুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়ে এই এলাকায় দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ ছাড়া জো লা, রিজা লা, বিসা গ্রাম ও পুকুর লার মতো পার্বত্য অঞ্চলও ভারতের সরকারি মানচিত্রে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সামরিক রসদ সরবরাহের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ জয়রামপুরকেও তালিকায় রাখা হয়েছে। পূর্ব অরুণাচল ও মিয়ানমার সীমান্তের নিরাপত্তায় নিয়োজিত বাহিনীর জন্য এলাকাটি গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ১৯৬২ সালের যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যশবন্ত গড় ও শের-ই-থাপার স্মৃতিসৌধসহ সম্ভো সরোবর, বড় ও ছোট কুন্দুন, কমলাং নগর, প্রীতনগর, রামনগর, জয়পুর ও একটি ঐতিহাসিক বুদ্ধমন্দিরও মানচিত্রে চিহ্নিত করা হয়েছে।
চীন অরুণাচল প্রদেশকে ‘জাংনান’ নামে দাবি করে আসছে। ২০১৭ সালে ছয়টি, ২০২১ সালে ১৫টি এবং ২০২৩ সালে আরও ১১টি এলাকার নাম পরিবর্তনের তালিকা প্রকাশ করে বেইজিং। ভারত এসব উদ্যোগকে ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে আসছে।
কসমিক ডেস্ক