বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও নিম্নচাপের প্রভাব কেটে যাওয়ার পর দীর্ঘ আট দিন পর আবারও সচল হয়েছে চট্টগ্রাম-সন্দ্বীপ নৌ যোগাযোগ। আবহাওয়া অধিদপ্তর সতর্ক সংকেত প্রত্যাহার করার পর শনিবার (১১ জুলাই) দুপুর থেকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) পরিচালিত চট্টগ্রাম-সন্দ্বীপ রুটে ফেরি ও স্পিডবোট চলাচল পুনরায় শুরু হয়।
নৌ চলাচল শুরু হওয়ায় গত এক সপ্তাহ ধরে আটকে থাকা হাজার হাজার যাত্রী, পণ্যবাহী যানবাহনের চালক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার কারণে দ্বীপবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছিল। ফেরি ও স্পিডবোট চালু হওয়ায় ধীরে ধীরে সেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।
এর আগে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট বৈরী আবহাওয়ার কারণে গত ৩ জুলাই থেকে সন্দ্বীপ চ্যানেলের কুমিরা-গুপ্তছড়া রুটে স্পিডবোট এবং বাঁশবাড়িয়া-গুপ্তছড়া রুটে ফেরি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে নেওয়া এই সিদ্ধান্তের ফলে দ্বীপাঞ্চলের সঙ্গে দেশের মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
নৌ যোগাযোগ বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন জরুরি রোগী, কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, প্রবাসী যাত্রী এবং ব্যবসায়ীরা। একই সঙ্গে পণ্য পরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সন্দ্বীপে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহেও প্রভাব পড়ে। এতে স্থানীয় বাজারে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং স্বাভাবিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও স্থবির হয়ে যায়।
শনিবার দুপুরে আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় এবং সতর্ক সংকেত প্রত্যাহার করার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ফের নৌযান চলাচলের অনুমতি দেয়। এরপর থেকেই ফেরি ও স্পিডবোট নির্ধারিত রুটে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার শুরু করে।
বাঁশবাড়িয়া-গুপ্তছড়া রুটে চলাচলকারী ফেরি ‘কপোতাক্ষ’-এর মাস্টার সাইফুল ইসলাম জানান, আবহাওয়া স্বাভাবিক হওয়া এবং সতর্ক সংকেত প্রত্যাহারের পর ফেরি চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে। যাত্রী ও যানবাহন নিরাপদে পারাপারের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও সম্পন্ন করা হয়েছে।
অন্যদিকে কুমিরা স্পিডবোট সার্ভিস পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান আদিল এন্টারপ্রাইজ জানিয়েছে, চ্যানেলের পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকায় শনিবার দুপুর ২টা থেকে গুপ্তছড়া-কুমিরা রুটে নিয়মিত স্পিডবোট চলাচল শুরু হয়েছে। এতে দীর্ঘদিন অপেক্ষায় থাকা যাত্রীরা দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর সুযোগ পাচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নৌ যোগাযোগ পুনরায় চালু হওয়ায় সন্দ্বীপে প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ আবার স্বাভাবিক হবে। একই সঙ্গে চিকিৎসা, শিক্ষা, ব্যবসা ও কর্মসংস্থানের কাজে মূল ভূখণ্ডে যাতায়াতও সহজ হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্ষা মৌসুমে আবহাওয়ার পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তন হতে পারে। তাই যাত্রী ও নৌযান পরিচালনাকারীদের নিয়মিত আবহাওয়া অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুসরণ করে যাতায়াতের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে নতুন নির্দেশনাও দেওয়া হতে পারে।
দীর্ঘ আট দিনের দুর্ভোগ শেষে নৌ যোগাযোগ পুনরায় চালু হওয়ায় সন্দ্বীপের জনজীবনে স্বস্তি ফিরেছে। দ্বীপবাসী আশা করছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আর কোনো বিঘ্ন ছাড়াই ফেরি ও স্পিডবোট চলাচল অব্যাহত থাকবে।
কসমিক ডেস্ক