ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের ফরিদাবাদে একটি বেসরকারি স্কুলে ঢুকে ২৯ বছর বয়সী এক শিক্ষিকাকে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে হত্যা করার ঘটনা ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। বুধবার (৪ আগস্ট) সকালে ঘটে যাওয়া এই হামলায় মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে শিক্ষিকার মুখ, গলা ও বুকে ৩০টিরও বেশি ছুরিকাঘাত করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত শিক্ষিকার নাম সন্ধ্যা। স্কুল প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সকালে মুখোশধারী এক যুবক স্কুলে এসে সন্ধ্যার সঙ্গে কথা বলতে চান। পরে তিনি স্কুলের গেটে গেলে অভিযুক্ত হঠাৎ ধারালো ছুরি বের করে তার ওপর হামলা চালায়।
ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, হামলাকারী প্রথমে স্কুলের লবিতে অপেক্ষা করছিল। শিক্ষিকাকে দেখতে পেয়ে বাইরে আসার ইশারা করে। এরপর গেটের কাছে তার গলা ধরে বাইরে টেনে নিয়ে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত শুরু করে। গুরুতর আহত হয়ে সন্ধ্যা মাটিতে লুটিয়ে পড়লেও হামলাকারী হামলা থামায়নি। বরং মাটিতে পড়ে থাকা অবস্থায়ও তার মুখ, পেট ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে একের পর এক আঘাত করে।
চিৎকার শুনে স্কুলের প্রশাসক ঘটনাস্থলে ছুটে এসে হামলাকারীকে থামানোর চেষ্টা করেন। তবে অভিযুক্ত ছুরি হাতে তার দিকেও তেড়ে এলে তিনি সরে দাঁড়ান। পরে নম্বরপ্লেটবিহীন একটি মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় হামলাকারী। গুরুতর আহত সন্ধ্যাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ জানায়, ঘটনার দুই ঘণ্টার মধ্যেই ২১ বছর বয়সী অভিযুক্ত অমিতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি ফরিদাবাদের কোট গ্রামের বাসিন্দা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তদন্তে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে অমিতের সঙ্গে শিক্ষিকা সন্ধ্যার পরিচয় হয়েছিল। এরপর থেকে তিনি বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও সন্ধ্যা তাতে সাড়া দেননি। অভিযোগ রয়েছে, অমিত নিয়মিত তার পিছু নিতেন এবং হয়রানি করতেন। এ ঘটনায় সন্ধ্যা আগে শ্লীলতাহানির অভিযোগও করেছিলেন। তদন্তকারীদের ধারণা, ওই ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই পরিকল্পিতভাবে স্কুলে গিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
কসমিক ডেস্ক