প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব মোহাম্মদ শফিকুল আলম বলেছেন, আসন্ন নির্বাচনে সব দলের জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বিদ্যমান রয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন কোনো দৃশ্যমান বিষয় নেই, যার ভিত্তিতে বলা যায় যে নির্বাচনী মাঠ অসম বা বৈষম্যমূলক।
শুক্রবার সকালে ময়মনসিংহে বিভিন্ন ধর্মীয় স্থাপনা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি বুরা পীরের মাজার, গত বছর হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত থানাঘাট এলাকার হজরত শাহ সুফি সৈয়দ কালু শাহ (রহ.)-এর মাজার, গাঙ্গিনার পাড়ের শিববাড়ী মন্দির এবং দুর্গাবাড়ী মন্দির পরিদর্শন করেন।
প্রেস সচিব বলেন, বর্তমানে প্রার্থীদের যাচাই-বাছাই কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে পূর্ণমাত্রায় নির্বাচনী প্রচার শুরু হবে। তিনি জানান, এখনো পর্যন্ত নির্বাচনের জন্য একটি ভালো পরিবেশ বজায় আছে এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী আমেজ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর মন্তব্যের প্রসঙ্গে শফিকুল আলম বলেন, ‘দু-একজন হয়তো এ নিয়ে কথা বলেন। কিন্তু আমরা এমন কোনো বাস্তব চিত্র দেখছি না, যেখান থেকে কেউ নিশ্চিতভাবে বলতে পারেন যে নির্বাচনের পরিবেশ অসম।’
তিনি বলেন, সরকার চায় একটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। পাশাপাশি সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিতব্য গণভোট নিয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। শফিকুল আলম বলেন, ‘আমরা চাই সবাই মিলে গণভোটে “হ্যাঁ” ভোট দিক। এই “হ্যাঁ” ভোটের মাধ্যমে যেন ভবিষ্যতে দেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি না ঘটে।’
প্রশাসন একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতি পক্ষপাত দেখাচ্ছে—এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রেস সচিব বলেন, প্রশাসন কোনো দল বা ব্যক্তির প্রতি ঝুঁকে পড়েনি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
শফিকুল আলম বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া শুধু একটি দলের নেত্রী ছিলেন না, তিনি ছিলেন জাতীয় নেত্রী। সে কারণেই তাঁর জন্য রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। এটাকে ভিন্নভাবে দেখার সুযোগ নেই।’
মাজারে হামলা প্রসঙ্গে কড়া মন্তব্য
গত বছরের ৮ জানুয়ারি ময়মনসিংহ নগরের প্রায় দুইশ বছরের পুরোনো হজরত শাহ সুফি সৈয়দ কালু শাহ (রহ.)-এর মাজারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাকে ‘অত্যন্ত ন্যক্কারজনক’ বলে আখ্যায়িত করেন প্রেস সচিব।
মাজার পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, ঐতিহাসিক এ স্থাপনায় এখনো হামলার চিহ্ন দৃশ্যমান। তবে সংস্কারের মাধ্যমে মাজারটিকে পুনরায় দাঁড় করানো হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশে সব ধর্ম ও মতের মানুষ শান্তি ও সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করবে।
শফিকুল আলম বলেন, ‘প্রত্যেক ধর্মীয় বিশ্বাস ও পথকে সম্মান করতে হবে। কেউ মাজারে যান, সেটাও সম্মানের। কেউ না গেলে সেটাও সম্মানের। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের মাধ্যমেই আমরা একটি নতুন ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারি।’