কুমিল্লার লাকসামে ৩ জন ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে এক অটোরিকশাচালককে এক মাসের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। ঘটনাটি ঘটে রবিবার (২৪ মে) দুপুরে লাকসাম রেলওয়ে জংশন বাজার এলাকায়।
দণ্ডপ্রাপ্ত অটোরিকশাচালক হলেন আমির হোসেন (৩০)। তিনি পাশ্বর্বর্তী চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মিতল্লা গ্রামের বাসিন্দা।
ঘটনার বিষয়ে জানা যায়, স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির তিন ছাত্রী প্রাইভেট পড়া শেষে অটোরিকশায় করে বাড়ি ফিরছিল। পথে অটোরিকশাচালক আমির হোসেন তাদের সঙ্গে অসদাচরণ ও যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী ছাত্রীদের অভিযোগের ভিত্তিতে স্থানীয় লোকজন দ্রুত চালককে আটক করে উপজেলা প্রশাসনকে খবর দেয়। পরে লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নার্গিস সুলতানা এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী কামরুন নাহার লাইলী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
পরবর্তীতে তিন শিক্ষার্থী এবং অভিযুক্ত চালককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ইউএনও তাৎক্ষণিকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাকে এক মাসের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজাপ্রাপ্ত আসামির কাছ থেকে ৭ হাজার ৫০০ টাকা, একটি মোবাইল ফোন এবং ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা জব্দ করা হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ইউএনও নার্গিস সুলতানা জানান, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন অপরাধ করতে সাহস না পায়।
পরে দণ্ডপ্রাপ্ত আমির হোসেনকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করে পুলিশ।
স্থানীয় প্রশাসন বলছে, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে নজরদারি আরও বাড়ানো হবে এবং এ ধরনের ঘটনায় শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করা হবে।
কসমিক ডেস্ক