চীনে জোড়া টর্নেডোর আঘাতে নিহত ১১, The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

চীনে জোড়া টর্নেডোর আঘাতে নিহত ১১,

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 7, 2026 ইং
চীনে জোড়া টর্নেডোর আঘাতে নিহত ১১, ছবির ক্যাপশন:

মধ্য চীনের হুবেই প্রদেশে আঘাত হেনেছে দুটি শক্তিশালী টর্নেডো। সোমবার (৬ জুলাই) সন্ধ্যায় সংঘটিত এই বিরল প্রাকৃতিক দুর্যোগে অন্তত ১১ জন নিহত এবং একজন নিখোঁজ হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। একই সময়ে দেশটির পূর্ব উপকূলে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী সুপার টাইফুন ‘বাভি’, ফলে চীনের বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন করে দুর্যোগের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানায়, সোমবার সন্ধ্যায় প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী টর্নেডো দুটি হুয়াংশি, হুয়াংগাং, ইঝো এবং শিয়াননিং শহরের ওপর দিয়ে বয়ে যায়। ঝড়ের সময় বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১৪৯ কিলোমিটার (৯৩ মাইল)

প্রচণ্ড ঝড়ের আঘাতে বহু গাড়ি ও ট্রাক উল্টে যায়, অসংখ্য বাড়ির ছাদ উড়ে যায় এবং শত শত গাছ উপড়ে পড়ে। বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শিল্প ও প্রযুক্তি কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত হুবেই প্রদেশে এ ধরনের শক্তিশালী টর্নেডো খুবই বিরল হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের ফুটেজে দেখা গেছে, হুয়াংগাং শহরের বিভিন্ন সড়কে ট্রাক ও ব্যক্তিগত গাড়ি দুমড়ে-মুচড়ে পড়ে আছে। উড়ে আসা টিনের ছাদ, ধাতব পাত এবং অন্যান্য ধ্বংসাবশেষে অসংখ্য যানবাহন ও বৈদ্যুতিক খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে জরুরি উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চীনে চরম আবহাওয়ার ঘটনা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারী বৃষ্টিপাত, আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস, তীব্র তাপপ্রবাহ এবং শক্তিশালী ঝড়ের মতো দুর্যোগ দেশটির অর্থনীতি ও জনজীবনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। প্রতিবছর এসব দুর্যোগে চীনের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে।

এদিকে পশ্চিম চীনের গানসু প্রদেশে ভারী বৃষ্টির পর সৃষ্ট ভূমিধসে অন্তত ১৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। দেশজুড়ে চলমান দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সরকার জরুরি তৎপরতা জোরদার করেছে।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বন্যা ও ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্ধার এবং মানুষের জীবন রক্ষায় ‘সর্বাত্মক প্রচেষ্টা’ চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন, দমকল বাহিনী, সেনাবাহিনী এবং উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে।

টর্নেডোর ধাক্কা কাটতে না কাটতেই নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে সুপার টাইফুন ‘বাভি’। বর্তমানে প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থানরত এই শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়টি দ্রুত চীন ও তাইওয়ানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, এটি স্থলভাগে আঘাত হানলে উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১০ জুলাই (শুক্রবার) তাইওয়ানে টাইফুনটির প্রভাবে এক মিটারেরও বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় তাইওয়ান সরকার প্রায় ২৯ হাজার সেনাসদস্যকে প্রস্তুত রেখেছে।

অন্যদিকে চীনের গুয়াংসি, গুয়াংডং, হাইনান, জিলিন ও লিয়াওনিং প্রদেশসহ বিভিন্ন এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র। পাশাপাশি সম্ভাব্য ভূমিধস, আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় দুর্যোগ পূর্বাভাস ব্যবস্থা আরও আধুনিক করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে আগাম সতর্কতা জোরদার করা এখন সময়ের দাবি। কারণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনে একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগের তীব্রতা ও ঘনত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
তেল নিতে গিয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, প্রাণ হারালেন দুই ব্যক্তি

তেল নিতে গিয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, প্রাণ হারালেন দুই ব্যক্তি