মহাবিশ্বের উচ্চশক্তির বিস্ফোরণ ও গামা-রে বার্স্ট (GRB) পর্যবেক্ষণে ব্যবহৃত নাসার ‘নীল গেহরেলস সুইফট অবজারভেটরি’ (Neil Gehrels Swift Observatory) বর্তমানে কক্ষপথ ক্ষয়ের (Orbital Decay) কারণে ধীরে ধীরে পৃথিবীর দিকে নেমে আসছে। বিজ্ঞানীদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে সূর্যের তীব্র কার্যকলাপের ফলে পৃথিবীর ঊর্ধ্ব বায়ুমণ্ডল কিছুটা প্রসারিত হয়েছে, যার কারণে অতিরিক্ত বায়ুমণ্ডলীয় ঘর্ষণ সৃষ্টি হয়ে টেলিস্কোপটির কক্ষপথ দ্রুত নিচে নেমে আসছে।
নাসার হিসাব অনুযায়ী, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০২৬ সালের শেষার্ধে সুইফট অবজারভেটরি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে পুনঃপ্রবেশ করতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে অর্ধশত মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক অবজারভেটরিকে রক্ষা করতে নাসা প্রায় ৩০ মিলিয়ন ডলারের একটি বিশেষ Orbit Boost Mission শুরু করেছে।
এই মিশনের অংশ হিসেবে Catalyst Space Technologies-এর তৈরি ‘লিংক’ (Link) নামের একটি বিশেষ রোবোটিক মহাকাশযান গত ৩ জুলাই প্রশান্ত মহাসাগরের মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ থেকে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়। বর্তমানে মহাকাশযানটি ধাপে ধাপে সুইফটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এতে রয়েছে তিনটি অত্যাধুনিক রোবোটিক বাহু, যা নিরাপদভাবে টেলিস্কোপটিকে ধরতে ও নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম।
নাসার পরিকল্পনা অনুযায়ী, লিংক প্রথমে সুইফটের কাছাকাছি পৌঁছে নিজস্ব যন্ত্রপাতি ও সৌর প্যানেলের কার্যকারিতা পরীক্ষা করবে। এরপর শুরু হবে অত্যন্ত সংবেদনশীল রঁদেভু অ্যান্ড ক্যাপচার (Rendezvous and Capture) প্রক্রিয়া। সফলভাবে সংযুক্ত হওয়ার পর নিয়ন্ত্রিত থ্রাস্ট ব্যবহার করে ধাপে ধাপে টেলিস্কোপটির কক্ষপথ আরও উঁচুতে তোলা হবে।
২০০৪ সালে উৎক্ষেপণের পর থেকে সুইফট অবজারভেটরি মহাবিশ্বের অন্যতম রহস্যময় ঘটনা গামা-রে বার্স্ট, ব্ল্যাক হোল, নিউট্রন তারকা এবং অন্যান্য উচ্চশক্তির জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা পর্যবেক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। নাসার মতে, যদি এটি অনিয়ন্ত্রিতভাবে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে, তবে অধিকাংশ অংশ ঘর্ষণের ফলে পুড়ে যাবে। তাই টেলিস্কোপটির বৈজ্ঞানিক কার্যক্রম আরও কয়েক বছর চালিয়ে নিতে এই কক্ষপথ উন্নয়ন মিশনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক