বিশ্বের অন্যতম প্রযুক্তি ও ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান Amazon কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল প্রশিক্ষণের জন্য একটি নতুন ‘কনটেন্ট মার্কেটপ্লেস’ চালুর পরিকল্পনা করছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সংবাদমাধ্যম ও প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের তৈরি কনটেন্ট নির্ধারিত শর্ত ও লাইসেন্সের আওতায় এআই উন্নয়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে সরবরাহ করতে পারবে।
প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম The Information–এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, অ্যামাজন ইতোমধ্যে একাধিক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। এসব বৈঠকে মূলত এআই মডেল প্রশিক্ষণের জন্য একটি কেন্দ্রীয় কনটেন্ট হাব বা মার্কেটপ্লেস গড়ে তোলার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে অংশ নেওয়া সূত্রগুলোর বরাতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এই প্রস্তাবিত মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে প্রকাশকরা তাদের সংবাদ প্রতিবেদন, বিশ্লেষণ, লেখা, ডেটাসেটসহ বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট লাইসেন্স আকারে সরবরাহ করতে পারবেন। এর বিনিময়ে তারা আর্থিক সুবিধা পাবেন, আর এআই কোম্পানিগুলো পাবে নির্ভরযোগ্য ও বৈধ উৎসের কনটেন্ট।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এআই প্রশিক্ষণের জন্য কনটেন্ট ব্যবহারের বিষয়টি বর্তমানে বিশ্বজুড়ে একটি সংবেদনশীল ইস্যু। অনেক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কপিরাইট–সংক্রান্ত অভিযোগের মুখে পড়েছে, কারণ প্রশিক্ষণ ডেটা হিসেবে ব্যবহৃত কনটেন্টের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে লাইসেন্সপ্রাপ্ত কনটেন্টের জন্য আলাদা একটি মার্কেটপ্লেস তৈরি হলে তা প্রযুক্তি ও প্রকাশনা—উভয় খাতের জন্যই লাভজনক হতে পারে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, অ্যামাজনের এই উদ্যোগ এআই শিল্পে একটি নতুন মানদণ্ড তৈরি করতে পারে। এর ফলে এআই মডেল প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত তথ্যের স্বচ্ছতা বাড়বে এবং কনটেন্টের উৎস ও মালিকানা নিয়ে বিতর্ক কমবে। একই সঙ্গে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এটি একটি নতুন আয়ের উৎস হিসেবেও কাজ করতে পারে।
তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা দেয়নি অ্যামাজন। কনটেন্ট লাইসেন্সিং মার্কেটপ্লেস ঠিক কবে চালু হবে, কী ধরনের কনটেন্ট এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে বা রাজস্ব বণ্টনের কাঠামো কী হবে—এসব বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি এখনো নির্দিষ্ট করে কিছু জানায়নি।
প্রযুক্তি খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অ্যামাজনের মতো বড় প্রতিষ্ঠানের এ ধরনের উদ্যোগ অন্য প্রযুক্তি কোম্পানিকেও একই পথে হাঁটতে উৎসাহিত করতে পারে। বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠান নিজস্ব বড় ভাষা মডেল বা জেনারেটিভ এআই নিয়ে কাজ করছে, তাদের জন্য লাইসেন্সপ্রাপ্ত কনটেন্ট ব্যবহারের একটি কাঠামোবদ্ধ পথ তৈরি হবে।
এআই প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে কনটেন্টের মূল্য ও অধিকার আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এমন পরিস্থিতিতে অ্যামাজনের পরিকল্পিত কনটেন্ট মার্কেটপ্লেস ভবিষ্যতে এআই উন্নয়ন ও কপিরাইট সুরক্ষার ভারসাম্য রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সব মিলিয়ে, যদিও অ্যামাজন এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি, তবে এআই প্রশিক্ষণে কনটেন্ট মার্কেটপ্লেস চালুর এই পরিকল্পনা প্রযুক্তি ও মিডিয়া জগতে ইতোমধ্যেই ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে।