যুদ্ধের মধ্যেই সীমান্ত খুলে আশার আলো গাজাবাসীর The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

যুদ্ধের মধ্যেই সীমান্ত খুলে আশার আলো গাজাবাসীর

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Feb 6, 2026 ইং
যুদ্ধের মধ্যেই সীমান্ত খুলে আশার আলো গাজাবাসীর ছবির ক্যাপশন:

ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকার মধ্যেই রাফাহ সীমান্ত আংশিকভাবে পুনরায় চালু হওয়ায় গাজার বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। সীমান্ত চালু হওয়ার পর সর্বশেষ আরও ২৫ জন ফিলিস্তিনি গাজায় ফিরে এসেছেন। পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে কয়েকজন রোগীকে গাজা থেকে সীমান্তের দিকে নেওয়া হয়েছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার রাফাহ সীমান্ত আংশিকভাবে চালুর পর গাজায় তৃতীয় দফায় ফেরা এই দলটি স্থানীয় সময় ভোর ৩টার দিকে প্রবেশ করে। মিসরের এল আরিশ শহর থেকে প্রায় ২০ ঘণ্টার বাসযাত্রা শেষে তাদের দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের নাসের হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া হয়।

ফেরত আসা ফিলিস্তিনিদের অনেকেই শারীরিক ও মানসিকভাবে বিধ্বস্ত ছিলেন। তারা জানান, সীমান্ত অতিক্রমের সময় ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে জিজ্ঞাসাবাদ ও দুর্ব্যবহারের মুখে পড়তে হয়েছে। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, দীর্ঘদিন পর স্বজনদের সঙ্গে দেখা হয়ে অনেকেই আবেগে ভেঙে পড়েন। একই সঙ্গে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার বাস্তব চিত্র দেখে হতবাক হন তারা।

ফেরত আসা ফিলিস্তিনি আইশা বালাউই জানান, স্বদেশে ফেরার অনুভূতি একসঙ্গে আনন্দ ও বেদনার। পরিবারকে ফিরে পেয়ে তিনি খুশি হলেও নিজের দেশের ব্যাপক ধ্বংস দেখে তার হৃদয় ভারাক্রান্ত হয়ে পড়েছে। বিদেশে নিরাপদে থাকলেও মানসিক শান্তি পাননি বলেও জানান তিনি।

আল জাজিরা জানিয়েছে, ফেরত আসাদের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সাতজন ফিলিস্তিনি রোগী ও তাদের ১৪ জন স্বজনকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য রাফাহ সীমান্তের দিকে পাঠানো হয়। একটি বাসে করে তাদের মিসরের অংশে স্থানান্তর করা হয়েছে।

তবে রোগী স্থানান্তরের গতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষকরা। চুক্তি অনুযায়ী প্রতিদিন ৫০ জন রোগী ও তাদের সঙ্গে দুজন স্বজন পাঠানোর কথা থাকলেও বাস্তবে সংখ্যা অনেক কম। এই হারে চললে প্রায় ২০ হাজার গুরুতর অসুস্থ রোগীকে স্থানান্তর করতে কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, চলমান যুদ্ধে গাজায় ২২টি হাসপাতাল সম্পূর্ণভাবে অচল হয়ে পড়েছে এবং অন্তত ১ হাজার ৭০০ চিকিৎসাকর্মী নিহত হয়েছেন।

মিসরের সঙ্গে গাজার একমাত্র প্রবেশ ও বহির্গমন পথ রাফাহ সীমান্ত যুদ্ধের বেশিরভাগ সময় বন্ধ ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া সাম্প্রতিক সমঝোতার অংশ হিসেবে এটি আংশিকভাবে পুনরায় চালু হয়েছে। তবে কেবল যুদ্ধের সময় গাজা ছেড়ে যাওয়া ফিলিস্তিনিদেরই আপাতত ফেরার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে এবং যাত্রীদের কঠোর নিরাপত্তা যাচাইয়ের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

এদিকে সীমান্তে যাতায়াত শুরু হলেও গাজাজুড়ে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার খান ইউনিস ও মধ্য গাজার বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে। সাম্প্রতিক সহিংসতায় আবারও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, যা যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
তালা খোলা ঘর আওয়ামী লীগ অফিস নয়, গুদামঘর দাবি বিএনপির

তালা খোলা ঘর আওয়ামী লীগ অফিস নয়, গুদামঘর দাবি বিএনপির