যে মেয়ে কথা কম বলেছিল, কিন্তু ইতিহাসে থেকে গেছে The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

যে মেয়ে কথা কম বলেছিল, কিন্তু ইতিহাসে থেকে গেছে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 11, 2026 ইং
যে মেয়ে কথা কম বলেছিল, কিন্তু ইতিহাসে থেকে গেছে ছবির ক্যাপশন:
ad728

বাংলা টেলিভিশন নাটকের ইতিহাসে কিছু চরিত্র সময়ের সঙ্গে পুরোনো হয় না। তারা গল্পের ভেতর আটকে থাকে না, বরং সমাজের স্মৃতিতে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে শুরু করে। কোথাও কেউ নেই নাটকের মুনা তেমনই এক চরিত্র—যে কোনো উচ্চকণ্ঠ প্রতিবাদ না করেও দর্শকের ভেতর দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন জাগিয়ে রাখে।

হুমায়ূন আহমেদের কলমে মুনা কোনো অতিমানবী নারী নয়। সে শক্তিশালী বক্তা নয়, সমাজ পরিবর্তনের স্লোগানও দেয় না। সে একেবারেই সাধারণ—আর সেই সাধারণত্বই তাকে করে তোলে অসাধারণ। মুনা ভালোবাসে বাকের ভাইকে, এমন এক মানুষকে, যাকে সমাজ ইতিমধ্যে অপরাধীর খাতায় লিখে ফেলেছে। এই ভালোবাসা কোনো শর্তে বাঁধা নয়, কোনো ভবিষ্যৎ নিশ্চয়তার ওপর দাঁড়িয়ে নেই। এটি নিছক বিশ্বাস থেকে জন্ম নেওয়া এক মানবিক সম্পর্ক।

মুনা চরিত্রটি আমাদের দেখায়, ভালোবাসা কখনো কখনো যুক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়ায়। রাষ্ট্র যখন বিচার করে, সমাজ যখন দণ্ড দেয়, তখন মুনা দাঁড়িয়ে থাকে একজন মানুষের পাশে—যে মানুষটিকে সে ভালোবেসেছে। এই দাঁড়িয়ে থাকাটাই মুনার সবচেয়ে বড় শক্তি।

নাটকের প্রতিটি দৃশ্যে মুনার উপস্থিতি যেন এক অদৃশ্য চাপ তৈরি করে। সে কথা কম বলে, কিন্তু তার নীরবতা দর্শককে অস্বস্তিতে ফেলে। কারণ, সেই নীরবতার ভেতর লুকিয়ে থাকে প্রশ্ন—বাকের ভাই কি সত্যিই অপরাধী, নাকি সে একটি ভাঙা ব্যবস্থার বলি?

বাকের ভাইয়ের ফাঁসির রায় ঘোষণার পর থেকে মুনা আর শুধু একটি চরিত্র থাকে না। সে হয়ে ওঠে সেই অসংখ্য মানুষের প্রতিচ্ছবি, যারা অন্যায়ের সামনে দাঁড়িয়ে কিছু বলতে পারে না, কিন্তু ভেতরে ভেতরে ভেঙে পড়ে। মুনার চোখের জল তখন আর ব্যক্তিগত থাকে না—তা হয়ে ওঠে সমষ্টিগত বেদনা।

বাংলা নাটকের ইতিহাসে খুব কম চরিত্রই আছে, যারা আদালত, রাষ্ট্র ও সমাজের নৈতিকতা নিয়ে এত গভীর প্রশ্ন তুলেছে, অথচ একবারও উচ্চস্বরে কথা বলেনি। মুনা সেই বিরল ব্যতিক্রম। তার নীরব কান্না যেন দর্শককে মনে করিয়ে দেয়—ন্যায়বিচার সব সময় কাগজে-কলমে লেখা আইনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।

সুবর্ণা মোস্তফার অভিনয় এই চরিত্রটিকে দিয়েছে এক অনন্য মাত্রা। তার চোখের ভাষা, থমকে থাকা দৃষ্টি, অপ্রস্তুত নীরবতা—সব মিলিয়ে মুনা হয়ে উঠেছে বিশ্বাসযোগ্য, জীবন্ত। মনে হয়, সে আমাদেরই আশপাশের কেউ। হয়তো পাশের বাড়ির মেয়ে, হয়তো কোনো অচেনা মুখ, যে সমাজের ভয়ে চিৎকার করতে পারেনি।

আজ এত বছর পরও যখন কোথাও কেউ নেই নিয়ে আলোচনা হয়, বাকের ভাইয়ের ফাঁসির কথা উঠলেই মুনার নাম উচ্চারিত হয়। কারণ, মুনা ছাড়া বাকের ভাইয়ের গল্প অসম্পূর্ণ। সে না থাকলে এই নাটক হয়তো শুধু একজন ‘অপরাধী’র বিচার হয়ে থাকত। মুনা থাকার কারণেই এটি হয়ে উঠেছে ন্যায়, অন্যায় ও মানবিকতার এক গভীর দলিল।

মুনা তাই কেবল একটি নাটকের চরিত্র নয়। মুনা হলো—ভালোবাসার সাহস, নীরব প্রতিবাদ আর সমাজের আয়নায় দাঁড়িয়ে থাকা এক প্রশ্নচিহ্ন। বাংলা নাটকের ইতিহাসে সে আজও দাঁড়িয়ে আছে—কিছু না বলেও সব বলে দেওয়া এক নাম।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
দেশে ফিরলে তারেক রহমান পাবেন পর্যাপ্ত নিরাপত্তা: স্বরাষ্ট্র

দেশে ফিরলে তারেক রহমান পাবেন পর্যাপ্ত নিরাপত্তা: স্বরাষ্ট্র