দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যু পরিস্থিতি আবারও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (স্বাস্থ্য অধিদপ্তর) প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে চলতি বছরে এ রোগে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬১০ জনে।
অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এদের মধ্যে ল্যাব পরীক্ষায় হাম নিশ্চিত হওয়া ৯১ জন শিশু ইতোমধ্যে মারা গেছে। পাশাপাশি হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরও ৫১৯ জন শিশু। অর্থাৎ, নিশ্চিত ও সন্দেহভাজন—উভয় ক্ষেত্র মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।
গতকাল সকাল ৮টা থেকে আজ শুক্রবার (৫ জুন) সকাল ৮টা পর্যন্ত সারা দেশে ১ হাজার ১৬৮ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ২৪৩ জনের শরীরে ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হামের মতো সংক্রামক রোগ সাধারণত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, বিশেষ করে টিকাদান কাভারেজ কম থাকলে বা ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীতে প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। শিশুদের ক্ষেত্রে এই রোগ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে কম থাকে।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি বছরে দেশে হামের সংক্রমণ ও মৃত্যু ধীরে ধীরে বাড়ছে। আক্রান্ত শিশুদের বড় একটি অংশ হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে এবং চিকিৎসা নিচ্ছে। তবে গুরুতর জটিলতা দেখা দিলে মৃত্যুর ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিয়মিত নজরদারি, টিকাদান কার্যক্রম জোরদার এবং দ্রুত শনাক্তকরণ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। পাশাপাশি অভিভাবকদেরও সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে শিশুদের সময়মতো টিকা প্রদান এবং প্রাথমিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া হয়।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হাম প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কোনো অঞ্চলে টিকাদানের ঘাটতি থাকলে সেখানে দ্রুত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। তাই নিয়মিত টিকা নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার শক্তিশালী নজরদারি জরুরি।
বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য খাতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে হাসপাতালগুলোতে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বাড়ায় চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায়ও বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
সব মিলিয়ে, দেশে হামের সংক্রমণ ও মৃত্যুর এই ঊর্ধ্বগতি জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের সতর্ক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন, যাতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ না নেয়।
কসমিক ডেস্ক