যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনের গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান John F. Kennedy Center for the Performing Arts-এর নাম পরিবর্তন সংক্রান্ত বিতর্কে বড় ধরনের আইনি সিদ্ধান্ত দিয়েছেন দেশটির এক ফেডারেল বিচারক। রায়ে বলা হয়েছে, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া এই প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন বা নতুন কোনো ব্যক্তির নাম যুক্ত করা যাবে না।
গত শুক্রবার (২৯ মে) দেওয়া এই রায়ে বিচারক নির্দেশ দেন, প্রতিষ্ঠানের নাম থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম সরিয়ে ফেলতে হবে। পাশাপাশি আসন্ন সংস্কার কাজের জন্য কেন্দ্রটি দুই বছরের জন্য সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তও স্থগিত করা হয়েছে।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ১৪ দিনের মধ্যে কেন্দ্রটির সব ধরনের সাইনেজ, ডিজিটাল বোর্ড, ভবনের সম্মুখভাগ এবং আনুষ্ঠানিক নথিপত্র থেকে ট্রাম্পের নাম অপসারণ করতে হবে। রায়ে স্পষ্টভাবে বলা হয়, এই ধরনের পরিবর্তন এককভাবে কোনো বোর্ড বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে করা সম্ভব নয়, কারণ এটি কংগ্রেস-নির্ধারিত নামকরণ নীতির অংশ।
এর আগে ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে কেন্দ্রটির নাম পরিবর্তন করে নতুনভাবে “দ্য ডোনাল্ড জে ট্রাম্প অ্যান্ড জন এফ কেনেডি মেমোরিয়াল সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টস” করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে বোর্ডে রদবদল এনে ট্রাম্প নিজেও ট্রাস্টি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন এবং পরে চেয়ারম্যান পদে আসীন হন।
পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বোর্ড পুনর্গঠনের মাধ্যমে নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয় এবং কেন্দ্রের মূল ভবনে ট্রাম্পের নাম সংযোজন করা হয়। তবে এই সিদ্ধান্তের পরপরই শিল্পী ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অনেকেই প্রতিক্রিয়া জানান, এবং কিছু বুকিং বাতিলও হয় বলে জানা যায়।
এই ঘটনায় বোর্ডের কয়েকজন সাবেক সদস্য ও ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান জয়েস বিটি আদালতে মামলা করেন। তাদের অভিযোগ ছিল, বোর্ডের বৈঠকে তাদের ভোটাধিকার সীমিত করা হয়েছে এবং নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত আইনগতভাবে বৈধ নয়।
বিচারক ক্রিস্টোফার কুপার তার ৯৪ পৃষ্ঠার রায়ে উল্লেখ করেন, প্রতিষ্ঠানটি মূলত সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট John F. Kennedy-এর স্মরণে প্রতিষ্ঠিত এবং এর নাম পরিবর্তনের ক্ষমতা শুধুমাত্র কংগ্রেসের হাতে রয়েছে। তাই কোনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে এটি পরিবর্তন করা আইনসিদ্ধ নয়।
রায়ের পর কংগ্রেসওম্যান জয়েস বিটি বলেন, “এই রায় প্রমাণ করেছে যে কেনেডি সেন্টার কোনো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, এটি মার্কিন জনগণের প্রতিষ্ঠান।” অন্যদিকে ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এই রায়ের সমালোচনা করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, কেন্দ্রটির ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ও সংস্কার পরিকল্পনা তার মতো করে বাস্তবায়ন করতে না দিলে তিনি এতে যুক্ত থাকতে আগ্রহী নন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, প্রতিষ্ঠানটিকে পুনর্গঠন ও আর্থিকভাবে শক্তিশালী করার জন্য তার অবদান রয়েছে।
কেনেডি সেন্টারের মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন। তাদের দাবি, কেন্দ্রটির সংস্কার ও উন্নয়নের জন্য যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল, তা ভবিষ্যতে বাস্তবায়ন করা হবে এবং আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে তারা তাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করাবেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই রায় যুক্তরাষ্ট্রের সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নামকরণ ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে সরকারি প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রভাব ও আইনি সীমারেখা কোথায় টানা হবে, তা নিয়েও নতুন প্রশ্ন উঠছে।
রায় কার্যকর হলে কেন্দ্রটির নাম আবারও পূর্বের অবস্থায় ফিরে যাবে, যা ১৯৭১ সালে উদ্বোধনের পর থেকে বহাল ছিল এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।
কসমিক ডেস্ক