প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হতে পারে। বর্তমানে ফল প্রকাশের আগে শেষ ধাপের যাচাই-বাছাই কার্যক্রম চলছে, যাতে কোনো ধরনের ভুল বা অসঙ্গতি না থাকে।
অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ফলাফল প্রস্তুতের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। প্রতিটি তথ্য একাধিকবার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে, যাতে শিক্ষার্থীরা নির্ভুল ফলাফল পায়। ফলাফল প্রকাশের আগে এই যাচাই প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তারা।
কর্মকর্তারা আরও জানান, সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষা পদক প্রদান, গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতাসহ অধিদপ্তরের নিয়মিত কার্যক্রমের ব্যস্ততার কারণে ফল প্রস্তুতের কাজ কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে। তবে এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে কাজ চলছে এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলেই ফলাফল প্রকাশ করা হবে।
ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীরা সহজেই ঘরে বসে তাদের ফলাফল জানতে পারবে। এজন্য আইপিইএমআইএস (IPEMIS) পোর্টাল ব্যবহার করা যাবে। এছাড়াও মোবাইল ফোনের খুদে বার্তা বা এসএমএসের মাধ্যমে দ্রুত ফল সংগ্রহের সুযোগ থাকবে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য প্রক্রিয়াটি আরও সহজ করে তুলবে।
উল্লেখ্য, গত ১৫ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের অধিকাংশ এলাকায় একযোগে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। তবে তিন পার্বত্য জেলা—রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি এবং বান্দরবান—এ বিশেষ সূচিতে ১৭ থেকে ২০ এপ্রিলের মধ্যে পরীক্ষা নেওয়া হয়।
এবার প্রায় সাড়ে ৬ লাখ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। তাদের মধ্য থেকে মেধার ভিত্তিতে মোট ৮২ হাজার ৫০০ জনকে বৃত্তির জন্য নির্বাচিত করা হবে। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ বা ৬৬ হাজার শিক্ষার্থী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে এবং ২০ শতাংশ বা ১৬ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী বেসরকারি (কিন্ডারগার্টেন) বিদ্যালয় থেকে নির্বাচিত হবে। মেধা তালিকায় ছাত্র ও ছাত্রীর সংখ্যা সমান রাখা হবে, অর্থাৎ ৫০ শতাংশ করে।
নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ‘ট্যালেন্টপুল’ ও ‘সাধারণ গ্রেড’—এই দুই বিভাগে আর্থিক সুবিধা দেওয়া হবে। ট্যালেন্টপুলে থাকা ৩৩ হাজার শিক্ষার্থী প্রতি মাসে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা পাবে। অন্যদিকে সাধারণ গ্রেডে থাকা ৪৯ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী মাসিক ২২৫ থেকে ২৫০ টাকা পাবে। এছাড়া উভয় গ্রেডের শিক্ষার্থীরাই প্রতি বছর এককালীন ২২৫ টাকা অতিরিক্ত ভাতা পাবে।
এই বৃত্তির সুবিধা ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত টানা তিন বছর ভোগ করা যাবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এই বৃত্তির অর্থের পরিমাণ দ্বিগুণ থেকে চার গুণ পর্যন্ত বাড়ানোর একটি প্রস্তাব সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই বৃত্তি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উৎসাহ জোগাবে এবং প্রাথমিক স্তরের মেধাবী শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ফলে প্রকাশের অপেক্ষায় থাকা লাখো শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে এখন বাড়ছে আগ্রহ ও প্রত্যাশা।
কসমিক ডেস্ক