অস্ট্রেলিয়ার পার্টনার ভিসা জটে দীর্ঘ অপেক্ষা, বিচ্ছিন্ন জীবনে হাজারো পরিবার The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

অস্ট্রেলিয়ার পার্টনার ভিসা জটে দীর্ঘ অপেক্ষা, বিচ্ছিন্ন জীবনে হাজারো পরিবার

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 15, 2026 ইং
অস্ট্রেলিয়ার পার্টনার ভিসা জটে দীর্ঘ অপেক্ষা, বিচ্ছিন্ন জীবনে হাজারো পরিবার ছবির ক্যাপশন:

এক দেশে স্বামী, অন্য দেশে স্ত্রী—অথবা উল্টো পরিস্থিতি। অস্ট্রেলিয়ার পার্টনার ভিসা প্রক্রিয়ার দীর্ঘ বিলম্বের কারণে এমন বাস্তবতায় দিন কাটছে বহু পরিবারের। প্রশাসনিক জটিলতা ও আবেদন নিষ্পত্তিতে ধীরগতির কারণে পারিবারিক পুনর্মিলনের স্বপ্ন অনেকের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষায় পরিণত হয়েছে।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে Tony Burke বলেছেন, পার্টনার ভিসা আবেদনে দীর্ঘ বিলম্ব থাকলেও তা কোনো রাজনৈতিক বা নীতিগত সিদ্ধান্তের ফল নয়। তার মতে, জনবল ও প্রশাসনিক সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণেই আবেদন নিষ্পত্তিতে সময় বেশি লাগছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে অস্ট্রেলিয়ার পার্টনার ভিসার অপেক্ষমাণ আবেদন সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজারে পৌঁছাতে পারে। এর সঙ্গে আরও কয়েক হাজার নতুন আবেদন যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে আবেদন নিষ্পত্তির চাপ আরও বাড়তে পারে।

সমালোচকদের একটি অংশের অভিযোগ, নেট অভিবাসন সংখ্যা কম দেখানোর উদ্দেশ্যে ভিসা প্রক্রিয়াকরণ ধীর করা হয়েছে। তবে অস্ট্রেলিয়া সরকার এ অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। সরকারি অবস্থান হলো, আবেদন বৃদ্ধির তুলনায় প্রশাসনিক সক্ষমতা যথেষ্ট না হওয়ায় এই জট তৈরি হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন আইনের অধীনে পার্টনার ভিসা সাধারণত চাহিদাভিত্তিক বা ‘ডিমান্ড-ড্রিভেন’ শ্রেণির মধ্যে পড়ে। এর আওতায় দেশটির নাগরিক, স্থায়ী বাসিন্দা বা যোগ্য নিউজিল্যান্ড নাগরিকরা তাদের জীবনসঙ্গীকে অস্ট্রেলিয়ায় আনার জন্য আবেদন করতে পারেন।

বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত পার্টনার ভিসাগুলোর মধ্যে রয়েছে অনশোর সাবক্লাস ৮২০/৮০১ এবং অফশোর সাবক্লাস ৩০৯/১০০। অধিকাংশ ক্ষেত্রে আবেদনকারীরা প্রথমে অস্থায়ী ভিসা পান, পরে নির্দিষ্ট সময় পর স্থায়ী বসবাসের সুযোগ লাভ করেন।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, অনেক আবেদনকারীকে এখন ১২ থেকে ২৪ মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে এই সময়সীমা আরও দীর্ঘ হচ্ছে। এর ফলে পরিবারগুলোকে মানসিক চাপ, আর্থিক অনিশ্চয়তা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা স্থগিত রাখার মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে অনেক আবেদনকারীর পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, স্বাস্থ্য পরীক্ষার সনদসহ বিভিন্ন নথির মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। ফলে নতুন করে এসব কাগজপত্র সংগ্রহ করতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। এতে আবেদনকারীদের আর্থিক বোঝা যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে অনিশ্চয়তা ও হতাশাও।

অভিবাসন বিশ্লেষকদের মতে, করোনা-পরবর্তী সময়ে অভিবাসন আবেদনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেলেও সেই অনুপাতে প্রশাসনিক অবকাঠামো ও জনবল বাড়ানো হয়নি। ফলে পারিবারিক পুনর্মিলনসংক্রান্ত আবেদনগুলোতে দীর্ঘসূত্রতা আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।

প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতারা বলছেন, পার্টনার ভিসা কেবল একটি অভিবাসন প্রক্রিয়া নয়; এটি পরিবারকে একত্রে বসবাসের সুযোগ করে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই দীর্ঘদিনের ভিসা জট নিরসনে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
পাকিস্তানের ছায়ায় কেন ফেরানো হচ্ছে বাংলাদেশকে: শেখ হাসিনা

পাকিস্তানের ছায়ায় কেন ফেরানো হচ্ছে বাংলাদেশকে: শেখ হাসিনা