ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকা সত্ত্বেও উগান্ডার ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপকে অন্যায্য বলে মন্তব্য করেছে দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, উগান্ডা সরকার ইতোমধ্যেই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে এবং পরিস্থিতি সম্পর্কে স্বচ্ছভাবে তথ্য প্রকাশ করছে।
উগান্ডার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশটি ইবোলা প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। সীমান্ত নজরদারি, আক্রান্তদের শনাক্তকরণ এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে। তাই শুধু সংক্রমণের ভিত্তিতে পুরো দেশের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা বৈজ্ঞানিকভাবে যৌক্তিক নয় বলে মনে করছে তারা।
মে মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে উগান্ডায় এখন পর্যন্ত ১৯ জনের ইবোলা সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে দুইজন মারা গেছেন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, আক্রান্তদের অধিকাংশই প্রতিবেশী দেশ গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র থেকে আগত ব্যক্তিদের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়েছেন।
অন্যদিকে, পরিস্থিতি কঙ্গোতে তুলনামূলকভাবে বেশি গুরুতর। সেখানে এখন পর্যন্ত ৬৭৬ জনের বেশি মানুষ ইবোলায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং ১৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কঙ্গোতে রোগটি নতুন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ায় ঝুঁকি আরও বাড়ছে।
এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রিয়াসুস সম্প্রতি উগান্ডার ইবোলা মোকাবিলার প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন। সংস্থাটি বলছে, উগান্ডার দ্রুত পদক্ষেপ ও নজরদারি ব্যবস্থা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে একই সঙ্গে সতর্ক করে বলা হয়েছে যে কঙ্গোতে ইবোলা ভাইরাস এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে এবং নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে।
উগান্ডা সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিকভাবে আরোপিত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর সমাধান নয়। বরং আক্রান্ত দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং যৌথ স্বাস্থ্য উদ্যোগ গ্রহণ করলে ইবোলা মোকাবিলা আরও কার্যকর হবে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত শনাক্তকরণ এবং টিকাদান কার্যক্রমই ইবোলা নিয়ন্ত্রণের মূল হাতিয়ার। এককভাবে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব পড়লেও রোগ নিয়ন্ত্রণে তা সীমিত কার্যকর হতে পারে।
উগান্ডা আরও জানিয়েছে, তারা আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে ইবোলা প্রতিরোধে কাজ চালিয়ে যাবে এবং সংক্রমণ সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
সব মিলিয়ে পূর্ব আফ্রিকায় ইবোলা পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক হলেও উগান্ডা বলছে, তাদের ওপর আরোপিত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এটি পুনর্বিবেচনা করা উচিত।
কসমিক ডেস্ক