খুবি শিক্ষক রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ, দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

খুবি শিক্ষক রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ, দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 18, 2026 ইং
খুবি শিক্ষক রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ, দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি ছবির ক্যাপশন:

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রধান অধ্যাপক রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ, যৌন হয়রানি এবং অনৈতিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী এক ছাত্রীর লিখিত অভিযোগের পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। পরবর্তীতে আরও কয়েকজন ছাত্রী একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের পাঠানো কথিত মেসেজের স্ক্রিনশর্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এসব স্ক্রিনশটে ‘বন্ধু হবা, কফি খাব আর মজা করব’, ‘বন্ধুর সঙ্গে হাগ করলে ডিপ্রেশন থাকে না’, ‘আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারব না’–এমন নানা আপত্তিকর ও অশালীন মন্তব্যের উল্লেখ পাওয়া যায় বলে অভিযোগ করা হয়।

গত মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্রে কৃষিপ্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষার্থীরা লিখিত অভিযোগ জমা দেন। সেখানে ভুক্তভোগীদের বক্তব্য ও প্রমাণ হিসেবে স্ক্রিনশর্ট সংযুক্ত করা হয়। শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এক ভুক্তভোগী ছাত্রী অভিযোগ করে বলেন, তিনি মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপে শিক্ষকের কাছ থেকে অশালীন বার্তা ও কল পেয়েছেন। তার দাবি অনুযায়ী, তিনি নিজে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠানোর পরপরই শিক্ষক এসব বার্তা পাঠানো শুরু করেন। ক্যাম্পাস বন্ধের ঠিক আগে এমন ঘটনা ঘটায় তিনি আতঙ্কিত হয়ে বিষয়টি সিনিয়রদের জানান।

তিনি আরও বলেন, একজন শিক্ষকের কাছ থেকে এমন আচরণ কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়। শুরুতে ভয় পেলেও তিনি এখন সামনে এসে অভিযোগ করছেন, যাতে অন্যরাও সাহস পান এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়।

একই বিভাগের আরও দুই ছাত্রী অতীতেও এমন হেনস্তার অভিযোগ তুলেছেন বলে জানা গেছে। একজন জানান, প্রায় এক যুগ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার সীমিত থাকলেও শিক্ষক ক্লাসের বাইরে বা ফোনে অস্বস্তিকর প্রশ্ন করতেন এবং ব্যক্তিগতভাবে অনুপযুক্ত আচরণ করতেন।

অভিযুক্ত শিক্ষক অধ্যাপক রেজাউল ইসলাম এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক। তার দাবি অনুযায়ী, তিনি নিজের ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছেন এবং এ বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়মশৃঙ্খলা মেনে চলতে উৎসাহ দিয়েছেন, আর সে কারণেই একটি মহল তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে পদক্ষেপ নিয়েছে। উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হারুনর রশিদ খান জানান, ডিনদের সঙ্গে বৈঠকের পর অভিযুক্ত শিক্ষককে ডিসিপ্লিন প্রধানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তার স্থলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অন্য একজন শিক্ষককে। তদন্ত শেষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

এদিকে, ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এবং শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা দ্রুত তদন্ত, দোষী প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তি এবং ভবিষ্যতে শিক্ষাঙ্গনকে নিরাপদ রাখার দাবি জানান।

শিক্ষার্থীদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি নিরাপদ ও আস্থার জায়গা হিসেবে গড়ে তুলতে এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর ভূমিকা অপরিহার্য।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
ত্রয়োদশ নির্বাচনে বিএনপি ১৫৩ আসনে জয়লাভ, সরকার গঠনের পথ খুলে

ত্রয়োদশ নির্বাচনে বিএনপি ১৫৩ আসনে জয়লাভ, সরকার গঠনের পথ খুলে