ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পের ছয় দিন পরও উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ১ হাজার ৯৪৩ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে এবং ১০ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে হাজার হাজার মানুষ এখনো নিখোঁজ থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দেশটির জাতীয় পরিষদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজ জানান, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা অঞ্চল থেকে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে প্রায় ৬ হাজার ৫০০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে নিজ উদ্যোগে বা স্বজনদের সহায়তায় উদ্ধার হওয়াদের যুক্ত করলে উদ্ধার হওয়া মানুষের সংখ্যা প্রায় ২০ হাজার হতে পারে।
উদ্ধারের আশার সময়সীমা অনেকটাই পেরিয়ে গেলেও রাজধানী কারাকাসে ধসে পড়া একটি ভবনের নিচ থেকে তিন বছর বয়সী এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। জর্ডানের সিভিল ডিফেন্স দলের এই সফল অভিযানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, শিশুটির শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল।
গত সপ্তাহে মাত্র এক মিনিটের ব্যবধানে ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে হাজার হাজার ভবন ধসে পড়ে এবং ব্যাপক প্রাণহানির পাশাপাশি বড় ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়। নাসার প্রাথমিক স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রায় ৫৮ হাজার ৮৭০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে থাকতে পারে।
এদিকে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা জানিয়েছে, লা গুয়াইরায় খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও আশ্রয়ের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। মৌলিক সেবা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। আগামী ছয় মাসে ক্ষতিগ্রস্ত ৩০ হাজার মানুষের জন্য জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করতে সংস্থাটি ১ কোটি ৪৮ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার সহায়তা চেয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) সতর্ক করে বলেছে, স্বাস্থ্যব্যবস্থা চরম চাপের মধ্যে রয়েছে এবং টিকাদানের হার কম থাকায় হাম ও ডিফথেরিয়ার মতো প্রতিরোধযোগ্য রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বেড়েছে।
জাতিসংঘের তথ্যমতে, এখনও প্রায় ৫০ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন এবং এই দুর্যোগে প্রায় ৭০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশ্বের ২৭টি দেশ থেকে পাঠানো উদ্ধারকারী দল, প্রশিক্ষিত কুকুর ও ভারী যন্ত্রপাতির সহায়তায় ধ্বংসস্তূপে জীবিতদের খোঁজ চলছে। একই সময়ে অসংখ্য পরিবার এখনো স্বজনদের সন্ধানে হাসপাতাল, মর্গ ও ধ্বংসস্তূপের সামনে অপেক্ষা করছে। শোক, অনিশ্চয়তা ও মানবিক সংকটের এই পরিস্থিতি দিন দিন আরও গভীর হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক