২০০৫ সালে যৌতুকের জন্য নির্যাতনের পর পুড়িয়ে হত্যা করা হয় কিশোরী সামিনাকে (১৬)। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০১৮ সালে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৯ তার স্বামীসহ ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। তবে রায়ের আট বছর পার হলেও এখনো সেই দণ্ড কার্যকর হয়নি।
মামলাটি বর্তমানে হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। বিচারিক আদালতের রায় উচ্চ আদালতে অনুমোদন ছাড়া কার্যকর করা যায় না, ফলে দীর্ঘসূত্রতার কারণে মামলাগুলো বছরের পর বছর ঝুলে থাকে। এই সময়ে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা কারাগারে থাকলেও চূড়ান্ত রায় কার্যকর হয় না।
সামিনার মা নাজমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, এত বছরেও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়নি। তিনি জানান, জীবিকার তাগিদে তাকে ফুটপাতে চুড়ি বিক্রি করতে হয় এবং সম্প্রতি তাকে আসামিদের স্বজনরা মারধর করেছে বলেও অভিযোগ করেন।
কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে নারী ও শিশু নির্যাতনসহ বিভিন্ন মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২৭৩ জন বন্দী কারাগারে রয়েছেন। দেশের ৭৪টি কারাগারে মোট মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দীর সংখ্যা ২,৭০০-এর বেশি, যা কারাগারের ধারণক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেথ রেফারেন্স ও আপিল নিষ্পত্তিতে দীর্ঘ সময় লাগার কারণে বিচারপ্রক্রিয়ায় বিলম্ব হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে বছরের পর বছর শুনানি না হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলো ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে।
অন্যদিকে কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দীদের ব্যবস্থাপনা কঠিন এবং কারাগারের অতিরিক্ত চাপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে।
সম্প্রতি কয়েকটি আলোচিত শিশু ধর্ষণ ও হত্যার মামলার দ্রুত রায়ের পর আবারও ডেথ রেফারেন্স শুনানির দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। আইন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দ্রুত শুনানির জন্য সুনির্দিষ্ট বেঞ্চ গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কার্যকর ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হলে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ন্যায়বিচারের উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়।
কসমিক ডেস্ক