মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে প্রযুক্তি খাতেও প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ইরানের ড্রোন হামলায় বাহরাইনে অবস্থিত Amazon-এর ক্লাউড কম্পিউটিং অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস (AWS)-এর একটি ডেটা সেন্টার এই হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়।
ঘটনাটি বুধবার (১ এপ্রিল) ঘটে বলে জানানো হয়েছে। একই দিনে বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি কোম্পানির স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, দমকল বাহিনী আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। কর্তৃপক্ষ এই ঘটনাকে ইরানের হামলা হিসেবে উল্লেখ করলেও, ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানটির নাম তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাটি অ্যামাজনের ক্লাউড ইউনিট Amazon Web Services (AWS)-এর একটি ডেটা সেন্টার হতে পারে। তবে এই হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না কিংবা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কত—তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য তখনো প্রকাশ করা হয়নি।
এই ঘটনার একদিন আগেই ইরানের বিপ্লবী গার্ড মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দেয়। সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে Microsoft, Google এবং Apple-এর নামও উল্লেখ করা হয়েছিল। ইরানের ওপর হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এই হুমকি দেওয়া হয় বলে জানা যায়।
হামলার বিষয়ে জানতে বার্তাসংস্থা রয়টার্স অ্যামাজনের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। ফলে ঘটনার বিস্তারিত প্রেক্ষাপট এবং ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র এখনও স্পষ্ট নয়।
তবে এর আগেও অ্যামাজন জানিয়েছিল, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বাহরাইনে তাদের ক্লাউড সেবা অঞ্চলে বিঘ্ন ঘটেছে। গত এক মাসের মধ্যে এটি দ্বিতীয়বার এমন ঘটনা ঘটল, যেখানে সংঘাতের প্রভাব সরাসরি তাদের কার্যক্রমে পড়েছে।
AWS-এর ডেটা সেন্টারগুলো বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ওয়েবসাইট, অ্যাপ্লিকেশন এবং সরকারি সেবা পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে এই ধরনের হামলা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নয়, বরং বৃহত্তর ডিজিটাল অবকাঠামো ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত প্রযুক্তি খাতকে নতুন করে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। বিশেষ করে বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ডেটা সেন্টারগুলো যদি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়, তাহলে বৈশ্বিক ডিজিটাল সেবার ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে।
সব মিলিয়ে, এই হামলা শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং প্রযুক্তি ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার একটি নতুন মাত্রা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক